
নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনকে সহায়তার জন্য বিরোধী দৈনিক ‘কামহুরিয়েত’ পত্রিকার ১৩ জন সাংবাদিক ও নির্বাহী কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে তুরস্কের একটি আদালত।
তবে, দৈনিকটির সম্পাদকরা বলছেন, এই শাস্তির মাধ্যমে তাদের ‘সৎ’ সাংবাদিকতাকে থামানো যাবে না।
দৈনিকটি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ঘোর বিরোধী এবং এটির প্রথম পাতার খবরগুলোতে তুরস্কে নিষিদ্ধ ঘোষিত কয়েকটি সংগঠনের সমর্থনে খবর ছাপানো হয়ে থাকে।
সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা ও প্ররোচনার জন্য বুধবার ইস্তাম্বুলের সিলভিরি আদালতে তাদের সাজা দেয়া হয়। তবে, তাদের আপিল মুলতুবি থাকায় তারা মুক্ত আছেন।
সংবাদমাধ্যমটির প্রধান সম্পাদক মুরাত সাবুনকুকে সাড়ে সাত বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। বাকীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর মুরাত সাবুনকু বলেন, ‘কোনো ধরনের শাস্তি সৎ সাংবাদিকতা থেকে আমাদের বিরত রাখতে পারবে না। প্রয়োজন হলে আমরা পুনরায় কারাগারে যাব কিন্তু আমরা সৎ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাব।’
তিনি আরো বলেন, এই শাস্তি কেবল তাকেই দেয়া হয় নি, বরং এর মাধ্যমে তুরস্ক এবং তুরস্কের সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকেও শাস্তি দেয়া হলো। কর্তৃপক্ষ প্রকৃত সাংবাদিকতা থেকে অন্যদের বিরত রাখতে চাইছে।
সংবাদমাধ্যমটির সাংবাদিকরা তাদের কভারেজের মাধ্যমে তিনটি সংগঠনকে ব্যাপকভাবে সমর্থন জানায়। সংগঠনটি তিনটি হচ্ছে- কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি, আল্ট্রা-লেফ্ট রিভলশনারি পিপলস লিবারেশন পার্টি এবং গুলেন আন্দোলন। তুরস্ক এই তিন সংগঠনকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে দেখে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরো পড়ুন…
সারাজেভো থেকে ইউরোপে এরদোগানের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু ২০ এপ্রিল
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছেন, অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশগুলো তুরস্কের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর বসনিয়ার রাজধানী সারাজেভো থেকেই নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করবে তুস্কের ক্ষমতাসীন দল একে পার্টি।
তুরস্কের সরকারপন্থী দৈনিক পত্রিকা ইয়েনি শাফাক জানিয়েছে, একে পার্টি আগামী ২০ মে সারাজেভো শহরে এক বিশাল নির্বাচনী শোভাযাত্রার আয়োজন করতে যাচ্ছে যাতে শুধু ইউরোপে বিভিন্ন দেশ থেকেই দশ হাজার মানুষ এবং বসনিয়ার বসবাসরত তুরস্কের সকল নাগরিক অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবার বলকান ইনসাইটের।
আগামী জুন মাসের ২৪ তারিখের আগাম নির্বাচনকে সামনে রেখে এই শোভার আয়োজন হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইয়েনি শাফাক।
তুরস্কের ভোটারদের মধ্যে বিশাল একটি অংশ বাস করে অস্ট্রিয়া, নেদারল্যন্ড ও জার্মানিতে গত সপ্তাহে দেশগুলো জানিয়েছে তারা তুরস্কের কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ড অনুমোদন করবে না।
গত ২০ এপ্রিল অস্ট্রিয়ান প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান কার্জ বলেছেন, তার দেশে তুরস্কের কোনো রজনৈতিক দলকে কোনো রকম কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হবে না।
তার এ ঘোষণা তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ইউইটিডি (দি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অব বলকান ডেমোক্রেটস) এ শোভাযাত্রার আয়োজন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য তুস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ষাট লাখ মানুষ বিদেশে বসবাস করে এর মধ্যে ৫৫ লাখই বসবাস করে পশ্চিম ইউরোপে। যা তুরস্কের মোট জনসংখ্যার প্রায় আট শতাংশ। আট কোটি জনসংখ্যার দেশ তুরস্কের বাইরে থাকা এই ষাট লাখ মানুষ নির্বাচনে একটি বড় ভূমিকা রাখে যাদের বেশিরভাগই এরদোগানের সমর্থক।
এরদোগান এবং একে পার্টি বিরোধী দলের দাবি অনুযায়ী প্রায় দেড় বছর আগেই আগামী ১৯ এপ্রিল জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে।