
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গত বছরের শেষের দিকে তিউনিসিয়ার এভিয়েশন বিজ্ঞানীকে হত্যার পিছনে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হাত রয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস।
মোসাদ সারা বিশ্বে ইসরাইলের শত্রুদের হত্যার মিশন পরিচালনার জন্য কুখ্যাত।
তিউনিসিয়ার দক্ষিণ পূর্ব শহর সাফাক্স এ নিজ বাসার বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয় হামাসের ড্রোন বিশেষজ্ঞ আল-জাউয়ারিকে। খবর আনাদোলু এজেন্সেী
১৯৬৭ সালে মিশরের পরমাণু বিজ্ঞানী সামির নাগিম দেশে ফেরার সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন।
তিনি ইসরাইলের সাথে মিশরের যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পরমাণু প্রকল্প চালু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শুরু করার পূর্বেই তাকে হত্যা করা হয়।
১৯৮০ সালে মিশরের আরেক পরমাণু বিজ্ঞানী ইয়াহিয়া আল মাসেদ কে হত্যা করা হয় প্যারিসে এক হোটেলে। তিনি ইরাকের পরমাণু প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৯১ সালে লেবানিজ মনোবিজ্ঞানী রামেল হাসান রামেল রহস্যজনকভাবে ফ্রান্সে নিহত হন।
১৯৯৩ সালে মিশরীয় বিজ্ঞানী গামেল হেমাদান মিশরের রাজধানীতে আত্মীয়ের বাসায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। তার লেখা ইহুদী ও ইহুদীবাদ বইয়ের খসড়া কপিও উধাও হয়ে যায় সেখান থেকে। এর পেছনেও মোসাদের হাত ছিল।
১৯৯৭ সালে মোসাদ জর্দানে হামাসের রাজনৈতিক নেতা খালেদ মেশালকে কানে বিষাক্ত পদার্থ ছিটিয়ে হত্যা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়।
২০০৪ সালে ইরাকের পশ্চিম শহর বাকুবাতে গাড়ি চালানোর সময় ইরাকী পরমাণু বিজ্ঞানী ইব্রাহিম আল দাহেরি কে গুলি করে হত্যা করা হয়।
২০১০ সালে ইরানী পদার্থ বিজ্ঞানী মাসুদ আলী মুহাম্মাদীকে তেহরানে তার বাসার সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ইরান এ হত্যাকান্ডের জন্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করলেও ইসরাইল কিছু বলেনি।
একই বছরে ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী মাজিদ শাহরিয়ার তেহরানে গাড়ি বোমা হামলায় নিহত হন।
২০১০ সালে হামাসের কমান্ডার মাহমুদ আল মাবহুহ দুবাইয়ের একটি হোটেলে নিহত হয় যার পেছনে মোসাদের হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
উপরোক্ত কোনো হত্যাকান্ডের সাথেই ইসরাইল তার জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেনি বা অস্বীকারও করেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোসাদের এই কিলিং মিশন মুসলিম বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয় এর একমাত্র কারণ তারা কখোনো চায় না মুসলিম দেশগুলো প্রযুক্তির দিক দিয়ে এগিয়ে যাক।
তুরস্কের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুস্তফা ওকান আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, ইসরাইল মুসলিমদের হাতে প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকাটাকে হুমকি মনে করে।
তিনি আরো বলেন, তারা চায় না মুসলিম দেশগুলোতে বিজ্ঞানী তৈরি হোক বিশেষ করে মিশর, ইরাক, ইরান ও পাকিস্তানে।
১৯৮১ সালে বিমান হামলায় ইরাকের বাগদাদে পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস করে দেয়ার ঘটনা তার উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিরিয়ান বংশোদ্ভুত সুইডিশ নাগরিক হাতেম আল জাওয়াবি একই ধরনের মত প্রকাশ করে বলেন, তারা ওই সব বিজ্ঞানীদের হত্যা করে যারা নিজ দেশকে যে কোনোভাবে সাহায্য করতে সক্ষম।










