
শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলকে সে দেশে যাওয়ার অনুমোদন দিতে রাজি হয়েছে মায়ানমার সরকার। সোমবার নিরাপত্তা পরিষদ প্রধান পেরুর গুস্তাভো মেজা-কুয়েদ্রা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে তিনি বলেন, এই সফরে প্রতিনিধি দলটি রাখাইন প্রদেশ পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি জানান, সফরের বিস্তারিত নিয়ে এখনো কাজ চলছে।
রাখাইনের ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে কথিত রোহিঙ্গা জঙ্গিদের হামলার পর ২৫ অগাস্ট থেকে মায়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন প্রদেশে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ।
সেনাবাহিনীর ওই অভিযানের পর থেকে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে মায়ানমার সফরের কথা থাকলেও এতদিন দেশটির সরকার অনুমোদন দিচ্ছিল না। ১৫ সদস্যের এ প্রতিনিধি দলটির
বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের কথা রয়েছে বলে গুস্তাভো জানিয়েছেন।
রোহিঙ্গা বসতি নিরাপদে সরানোর কাজ শুরু
আসন্ন ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে ঝুঁকি এড়াতে পাহাড়ি ঢাল ও সাগর তীরবর্তী অঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া ১ লাখ রোহিঙ্গার বসতি স্থানান্তর শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার।
পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক সোমবার জানান, মৌসুমী ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, সাইক্লোন থেকে আশ্রিতদের রক্ষায় আগাম সতর্কতা হিসেবে সরকার তাদের জন্য নতুন জায়গা বরাদ্দ করেছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর রোহিঙ্গাদের অনেকেই কক্সবাজারের বিভিন্ন পাহাড়ের ঢালে মাটি সমান করে বসতি স্থাপন করেছে, যা বর্ষা মৌসুমে নিয়ে আসতে পারে মারাত্নক বিপর্যয়।
ঢাকায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার জোসেফ ত্রিপুরা বলেন, ‘রোহিঙ্গা বসতি যে জায়গায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটি প্রস্তুতের কাজ মাসখানেক আগেই শুরু হয়েছে।’
তিনি জানান, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশন ইতিমধ্যে সহযোগী সংস্থাগুলোর সহায়তায় ঝুঁকিতে থাকা ৩৬০ রোহিঙ্গা পরিবারকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানেবাসস্থান করে দিয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে গত বছরও বাংলাদেশে সরকারি হিসেবে দেড়শ’ লোক মারা গেছেন। পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেন, ‘এ ধরনের দুর্যোগ আমাদের কাছে নতুন নয়। সরকার এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে।’
সূত্র: এপি