
কক্সবাজারে দুজন স্কুল ছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ- তারা দুজনই দশম শ্রেণীর ছাত্র। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তারা একই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রকে বলাৎকার করে আসছিলো।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন অভিযুক্ত দুজনকেই আটক করে তাদের বিরুদ্ধে বলাৎকারের মামলা দেয়া হয়েছে। খবর-বিবিসি
ওদিকে আক্রান্ত ছেলেটিকে এখন সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে আছে।
সেখানকার চিকিৎসক শাহীন আব্দুর রহমান চৌধুরীকে বলেছেন গতকালই ওই কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দ্রুতই তারা পুলিশের কাছে তাদের প্রতিবেদন জানাবেন।
আক্রান্ত ছেলেটির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে যে স্কুলের হোস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করতো। সেখানেই আটক হওয়া দুই ছাত্র কিছুদিন ধরেই তাকে বলাৎকার করে আসছিলো।
আক্রান্ত ও অভিযুক্ত তিনজনই স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্কুলের একটি এক কক্ষের হোস্টেলে তারা থাকতো।
আক্রান্ত কিশোরর মা বলেন ওই কক্ষে ৮/৯ জন শিক্ষার্থী থাকতো।
তিনি জানান, বেশ কিছু ধরেই তার সন্তান হোস্টেলে যেতে চাইতোনা এবং অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতো।
‘বিভিন্নভাবে ছেলেটি আমাকে বলতো কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি যে তাকে এভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। সে তার নানীকেও বলেছে যে ওখানে খারাপ ছেলেরা আছে’।
তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছি পড়ার ভয়ে ছেলেটা হোস্টেলে যেতে চাইছেনা। এবার এসে মোটেও যেতে চাইছিলোনা। সোমবার রীতিমত মারধর করে তাকে হোস্টেলে পাঠাই আমি’।
এরপর তার খালা হোস্টেলে গেলে সব কিছু প্রকাশ পায় এবং সেখানেই জানা যায় যে দশম শ্রেণীর দুজন শিক্ষার্থী এই কিশোরকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে অনেক দিন ধরেই যৌন নির্যাতন করে আসছিলো।
এরপর আক্রান্ত ছেলেটিকে বাড়ি নিয়ে আসা হয় ও সব জানার পর দশম শ্রেণীর ওই দু’শিক্ষার্থীকে পুলিশে দেয়ার ব্যবস্থা করেন স্থানীয় চেয়ারম্যান।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্রান্ত ছেলেটিকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তিসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার ব্যবস্থা করেন।
ছেলেটির পরিবারর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মামলা করে পুলিশ।
তার মা বলেন, ‘আমার এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলেটি খুবই ভদ্র ও শান্ত। যারা ছেলেটিকে এমনভাবে অত্যাচার করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমি’।
আরো পড়ুন….
বাংলাদেশের পাবনায় কথিত সমকামী বিয়ে নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন, শুরু হয়েছে পুলিশী তদন্ত
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা পাবনায় ২৩ বছর বয়সী এক যুবকের সাথে ১৩ বছর বয়সী একটি বালকের কথিত বিয়েকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
পাবনার চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ১৩ বছর বয়সী বালকটির পিতা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তার ছেলেকে অন্যায়ভাবে আটক করে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়েছে।
আহসান হাবিব বলেন, ‘ওই যুবক ও বালক দুই ধর্মের অনুসারী। তবে হিন্দু রীতি অনুযায়ী পূজা-পার্বণের মাধ্যমে বিয়ে দেয়া হয়েছে বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন।’
তবে এ বিয়ের সাথে সমকামিতার কোন সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ ধারণা করছে।
‘কিছুদিন আগে ছেলেটির বাবা অসুস্থ হলে তার মা সুস্থতা কামনা করে পূজা দিতে চেয়েছিল। পরে তার স্বামী সুস্থ হলেও তিনি স্বপ্নে দেখেন যে একটি মুসলিম ছেলের সাথে তার ছেলের বিয়ে দিলে পরিবারের জন্য ভালো হবে,’ বলছিলেন চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব।
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু ছেলে-ছেলে বিয়ে হয়েছে সেজন্য অনেকে এটাকে সমকামিতা হিসেবে ধরে নিচ্ছে।’
এজাহারে ঠিক কোন ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে কিংবা সুনির্দিষ্টভাবে কী অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি জানাতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, মার্চ মাসের ২৮ তারিখে ১৩ বছর বয়সী ছেলেটি মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়।
রাস্তায় বৃষ্টি এলে সে একটি দর্জির দোকানে অপেক্ষা করতে থাকে। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় দর্জি ওই ছেলেটিকে তার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং কয়েকদিনের জন্য তাকে থাকতে দেয়।
এক পর্যায়ে দর্জির ২৩ বছর বয়সী ছেলের সাথে ১৩ বছর বয়সী ছেলেটিকে ভুল বুঝিয়ে বিয়ে দেয়া হয় বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।
কিন্তু বিলচলন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে কিছুটা ভিন্ন ভাষ্য পাওয়া যাচ্ছে।
বালকটিকে পুলিশ ‘ভিকটিম’ হিসেবে উল্লেখ করলেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, এ কথিত বিয়ের বিষয়ে উভয় পরিবারই অবগত ছিল।
কয়েকদিন আগে গোপনে এ বিয়ে সংগঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মি: আলী।
তিনি বলেন, ‘একজনকে পুরোহিত সাজিয়ে হিন্দু রীতিতে গোপনে এ বিয়ে করানো হয়। কয়েকদিন আগে এ বিয়ে হয়েছিল। পরে এ ঘটনা এলাকাবাসী জানতে পারে। এরপর আমি বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি।’
চাটমোহর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনও সরকার অসীম কুমার বিষয়টিকে ‘সমকামী বিয়ে’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ঘটনা সম্পর্কে জানার পর পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছিল।
অসীম কুমার বলেন, ‘তদন্তে যে বিষয়গুলো চলে আসছে সেটা হলো আসলেই গে ম্যারেজের (সমকামী বিয়ে) মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে তারা সমকামী। এ মুহূর্তে ঐভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। তবে সমকামী হিসেবে মোটামুটি প্রতীয়মান হয়েছে।’
ইউএনও এবং পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনা সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে, তবে বিস্তারিত একটি তদন্তও চালানো হচ্ছে।
বাংলাদেশের আইনে পুরুষদের ক্ষেত্রে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ২১ বছর। এছাড়া, দেশটিতে সমকামিতাও আইনত নিষিদ্ধ।