
মুচলেকা দেওয়ায় বিজিএমইএ ভবন ভাঙার জন্য শেষবারের মতো এক বছরের সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আজ সকালে আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
এর আগে মুচলেকায় ভুল থাকায় বিজিএমইএ (বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারারস এ্যান্ড এক্সপোর্টিং এ্যাসোসিয়েশন) ভবন ভাঙতে সময় বাড়ানোর বিষয়ে সোমবার আদেশ দেয়ার কথা জানায় আপিল বিভাগ।
রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) বহুতল ভবন ভাঙতে আরো ৭ মাস সময় দিয়েছিল আপিল বিভাগ। কিন্তু আপিল বিভাগের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে ভবন ভাঙ্গতে না পেরে আবারও সময় আবেদন করে বিজিএমইএ।
সে সময় মুচলেকা দিলে বিজিএমইএ এর সময় আবেদন বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছিল আপিল বিভাগ।
একই সঙ্গে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কি পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ এ আদেশ দেয়া হয়েছিল।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বিজিএমইএ’র পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী।
বিজিএমইএ বহুতল ভবন ভাঙ্গতে ৩ বছরের সময় চেয়ে গত ৮ মার্চ আবেদন করা হয়। সে প্রেক্ষিতে গত ১২ মার্চ ৬ মাস সময় দিয়েছিল আদালত। এর আগে গত ৫ মার্চ বিজিএমইএ বহুতল ভবন ভাঙ্গার আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আনা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।
আইনজীবী মনজিল মোরশেদ সাংবাদিকদের জানান, এখন আদালতের বেধে দেয়া সময়ে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষকে তাদের সব মালামাল ও কার্যক্রম সরাতে হবে। রাজউক ভবন ভাঙার কাজ শুরু করবে।
হাইকোর্ট ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ভূমির মালিকানা স্বত্ব না থাকা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও জলাধার আইন ভঙ্গ করায় বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ অবৈধ ঘোষণা করেছিল। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভবন অবৈধ ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের ৩৫ পৃষ্ঠায় দেয়া পূর্নাঙ্গ রায় গত বছর ৮ নভেম্বর প্রকাশ করা হয়েছিল।
এর আগে ২০১৭ সালের ২ জুন আপিল বিভাগ বেঞ্চ সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছিলো। এ ভবনটি বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি করে বেআইনিভাবে প্রায় ২০ বছর আগে বহুতলবিশিষ্ট বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়। হাইকোর্ট ২০১১ সালে এক রায়ে জলাধার রক্ষা আইন লঙ্ঘন করে হাতিরঝিলে গড়ে তোলা বহুতল এ ভবনটি ভাঙার নির্দেশ দেয়।
রায়ে বলা হয়েছিল, বিজিএমইএ ভবনটি সৌন্দর্যমন্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যান্সারের মতো। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ ৬৯ পৃষ্ঠায় রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে আপিল করে বিজিএমইএ।