
রাহুল গান্ধীর নির্দেশে নিজের অপসারণের বিজ্ঞপ্তিতে নিজেই সই করে বিদায় নিতে হয়েছে জনার্দন দ্বিবেদীকে। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে যিনি কংগ্রেসের সংগঠনের দায়িত্ব সামলেছেন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে।
কংগ্রেস বলছে, নবীনদের জায়গা দিতে চলতি মাসেই আরও প্রবীণেরও দায়িত্ব ছাঁটা নিশ্চিত।
কংগ্রেস সূত্রের মতে, এ মাসের মাঝামাঝি নতুন ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করতে চলেছেন রাহুল। আর সেখানে অনেক প্রবীণের বিদায় নিশ্চিত। তবে যোগ্যতা অনুসারে প্রবীণদেরও অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগাবেন রাহুল। গুজরাতের সাফল্যের পর অশোক গহলৌতকে সংগঠনের দায়িত্ব দিয়ে রাহুল এ কথাটা বুঝিয়ে দিয়েছেন।
কংগ্রেস শিবিরের খবর, হরিয়ানায় দায়িত্ব থেকে সরানো হতে পারে কমল নাথকে। মোহন প্রকাশকে সরানো হতে পারে মহারাষ্ট্রের দায়িত্ব থেকে। উত্তর-পূর্ব-সহ একাধিক রাজ্যে ব্যর্থতার পরে ডানা ছাঁটা হতে পারে সি পি জোশীরও। দিল্লির দায়িত্ব থেকে সরানো হতে পারে পি সি চাকোকে। সাধারণ সম্পাদক পদে না-ও থাকতে পারেন সুশীলকুমার শিন্দে, অম্বিকা সোনিরা।
গত কয়েক দিনে রাজ্যে রাজ্যে যাদের নতুন দায়িত্ব দিয়েছেন রাহুল, তারা অধিকাংশই বয়সে নবীন। যেমন গুজরাতের নতুন রাজ্য সভাপতি অমিত ছাওড়ার বয়স ৩৫-এর কোঠায়। তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক। ছত্তীসগঢ়ের দায়িত্ব পাওয়া চন্দন যাদব পড়েছেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। মহারাষ্ট্রের যশোমতী ঠাকুরকে ভোটমুখী কর্নাটকে পাঠিয়েছেন। তিনি আইনজীবী। গুজরাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজীব সাটভের বয়সও ৪৫-এর নীচে।
কিছু দিন আগেই সোনিয়া গান্ধী জানিয়েছিলেন, রাহুল মনে করেন কংগ্রেসে নবীনদের দায়িত্ব দিলেই দলের সাফল্য আসবে। কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, ‘এখন যারা প্রবীণ, তাদের সিংহভাগকেই যুব বয়সে দলে এনেছিলেন রাজীব গান্ধী। সোনিয়া সভানেত্রী থাকার সময়ও তাদের নিয়েই চলেছেন। কিন্তু দল এখন ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে। ফলে যুবকদের উদ্দীপনাকেই বেশি করে কাজে লাগাতে চান কংগ্রেস সভাপতি।’
তবে কংগ্রেসের প্রবীণদের আশা, যারা এখন বাদ পড়ছেন, তারা ঠাঁই পাবেন ওয়ার্কিং কমিটিতে। কিংবা রাহুল অন্য কোনও দায়িত্ব দেবেন।