
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা সদরে ঘোড়াঘাটমূখী পলাশবাড়ী সরকারি কলেজ রোডে অবস্থিত মা ক্লিনিক এন্ড নাসিং হোমে সদ্যজাত পুত্র সন্তান কে আছাড় দিয়ে হত্যা করলো পাষন্ড পিতা : পাষন্ড পিতা ঘাতক সাজু মিয়া (৩১)কে আটক করেছে থানা পুলিশ।
ক্লিনিক সূত্রে জানা যায়, আজ ১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় মা ক্লিনিক এন্ড নার্সিং হোমে সন্তান প্রসব করার জন্য নিকট আত্মীয় স্বজনেরা ভর্তি করান শাহনাজ বেগম সাহেরা (৩৫)কে।
এরপর রাত ৯ ঘটিকার সময় অত্র ক্লিনিকে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন শাহানাজ বেগম সাহেরা। শিশুটি প্রসবের পর অচেতন থাকেন মা সাহেরা। এরপর সাহেরা চেতনা ফিরে আসলে রাত আনুমানিক ১০ ঘটিকায় শিশুটিকে হাতে নিয়ে দেখতে চেয়ে শিশুটির মামী কোহিনুর বেগমের কোল থেকে নিয়ে নেন ঘাতক পিতা সাজু মিয়া (৩১) । শিশুটিকে হাতে নিয়ে উপর দিকে ছুড়ে দেন এবং এসময় শিশুটি নিচে পরে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
এরপর উপস্থিতিতে সকলে ঘাতক পিতা সাজু মিয়াকে আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেয়। থানা পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক পিতা সাজু মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী দুবলাগাড়ী গ্রামের আব্দুল করিমের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪৫) জানান, শিশুটি জন্ম নেওয়ার পর শিশুটির মা আযান দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে শিশুটিকে দেখার কথা বলে হাতে নিয়ে ঘাতক পিতা সাজু মিয়া উপর দিকে ছুড়ে ফেলে এসময় শিশুটি পরে গিয়ে সাথে মারা যায়। সকলে মিলে ঘাতক পিতা সাজু মিয়া কে আটক করে পুলিশে দেয়।
নিহত শিশুটি মামী কোহিনুর বেগম বলেন শিশুটিকে দেখতে চেয়ে ঘাতক সাজু মিয়া হাতে নিয়ে উপর দিকে ছুড়ে নিচে আছাড় দেওয়ায় শিশুটি ঘটনাস্থলে মারা যায়। হত্যার পর ঘাতকের মনের আশা পরুন করেছে বলে সে সময় জানায় ঘাতক সাজু মিয়া।
এখবর নিশ্চিত করে থানা অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল আলম জানান, ঘাতককে পুলিশ আটক করেছে শিশুটির মরদেহ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ১ নং কামদিয়া ইউনিয়নের তুলট গ্রামের দরিদ্র পিতা কৃষক সাহা মিয়ার একমাত্র কন্যা ও শিশুটির মাতা শাহনাজ বেগম সাহেরা (৩৫) একই উপজেলার ৩ নং শাখাহার ইউপির মোল্লাপারা গ্রামের সুলতান সরকারের পুত্র ঘাতক সাজু মিয়ার (৩১) এর সহিত গত তিন বছর পূর্বে পরিবারের ও নিজেদের সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে নিত্য নতুন কলহ চলে আসছিল। শাহনাজ বেগম সাহেরা (৩৫) স্বামী সাজু মিয়া (৩১) এর চেয়ে বয়সে প্রায় ৪ বছরে বড় ছিল। শাহনাজ বেগম সাহেরার শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিগ্রীপাশ। ঘাতক স্বামী সাজু মিয়া কোরআনে হাফেজ।পেশা সে একজন রংমিস্ত্রি।