
কেনিয়ার একটি মেডিকেল কলেজে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরিহিত অবস্থায় কলেজের ভিতর প্রবেশে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার কেনিয়ার ওয়িনগি শহরের একটি মেডিকেল ট্রেনিং কলেজে এই ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীরা বলেছে, দুই মাস আগে কলেজটিতে একজন নতুন ডেপুটি প্রিন্সিপাল আসার পর থেকে পোশাক নিয়ে বির্তক শুরু হয়। তিনি কলেজে যোগদান করেই মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব নিষিদ্ধ করার অঙ্গীকার করেন। তার যুক্তি হচ্ছে হিজাব কলেজ ইউনিফর্মের অংশ নয়।
আব্দুল্লাহি হাসান নামের একজন ছাত্রীর বাবা দেশটির একটি জাতীয় পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের ছাত্রীরা গত তিন দিন ধরে কলেজে যেতে পারছে না। কারণ ম্যানেজমেন্ট থেকে গেটকিপারদের বলে দেয়া হয়েছে, হিজাব পরিহিত কাউকে যেন কলেজে প্রবেশ করতে দেয়া না হয়।’
ইউনূস আবদুল্লাহি নামে কেনিয়ার মুসলিমদের সুপ্রিম কাউন্সিল (এসপিইএইচএম) -এর একজন কর্মকর্তা আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, ‘কলেজটিতে যা ঘটছে সে সম্পর্কে আমরা সচেতন আছি। এই বিষয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টির সমাধান আশা করছি। আমরা মুসলিম নেতারা এ বিষয়ে নীরব থাকবন না।’
কেনিয়াতে এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে আইসিওলো কাউন্টির ‘সেন্ট পল কিভানজানি হাই স্কুল স্কুলে’ মুসলিম মেয়েদের মাথায় হিজাব নিষিদ্ধ করার জন্য হাইকোর্টে একটি আবেদন করেছিল। এছাড়াও, অন্যান্য কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজেও হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে মুসলিম ছাত্রীরা অন্যত্র স্থানান্তর হতে বাধ্য হয়েছে।
আরো পড়ুন…
হিজাব পরায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
বসনিয়ার জনসংখ্যা ৩৮ লক্ষ। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মুসলমান। সম্প্রতি সে দেশের আইন-আদালতের বিচারক ও কর্মীদের হিজাব পরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে রবিবার রাজধানী সারায়েভোতে বিক্ষোভ হয়েছে। প্রায় দুই হাজার মানুষ এতে অংশ নেন, যার বেশিরভাগই নারী।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা যে সব ব্যানার নিয়ে গিয়েছিলেন, তাতে লেখা ছিল ‘হিজাব আমার প্রতিদিনের পছন্দ’, ‘হিজাব আমার অধিকার’, ‘হিজাব আমার জীবন’।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া হালকা নীল রঙের হিজাব পরা ৩৩ বছরের এক মা এলিসা হামোভাচ বলেন, ‘‘আমরা এখানে আমাদের অধিকার রক্ষা করতে এসেছি। এটা আমাদের মুকুট, আমাদের অধিকার, আমাদের সম্মান।”
বসনিয়ার মুসলিম রাজনীতিবিদ সহ ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনও এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
মুসলিম অধ্যুষিত বসনিয়ার মুসলমানদের ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে দেখা গেছে। ১৯৯২ সালে স্বাধীন হওয়ার আগে বসনিয়া যখন কমিউনিস্ট যুগোস্লাভিয়ার অংশ ছিল তখন সেখানে হিজাব নিষিদ্ধ ছিল। তবে স্বাধীনতা পাওয়ার পর অনেক নারী হিজাব পরা শুরু করেন।