
ডেস্ক: রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লেভারভ বলেছেন, তার দেশের ওপর পরমাণু হামলা চালানোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি আরো বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যম আমেরিকা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
অন্যদিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে সম্ভাব্য রুশ-মার্কিন পরমাণু যুদ্ধের পরিণতির বিষয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন রাশিয়ার অবসরপ্রাপ্ত লেফট্যানেন্ট জেনারেল এভজেনি বুজিনস্কি। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ হলে তা মানব সভ্যতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিবে।
বুধবার জাতিসংঘ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় লেভারভ বলেন, “মার্কিন সামরিক বাহিনী ইউরোপজুড়ে কৌশলগত ও প্রচিলত অস্ত্র মোতায়েন করেছে এবং সেগুলোকে নিয়ে ন্যাটো জোটের বাইরের দেশগুলোসহ ইউরোপের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। আমরা সবাই জানি যে, এই ধরনের তৎপরতা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির লঙ্ঘন এবং পরমাণু অস্ত্র নেই এমন দেশকে মহড়ায় অংশ নেয়ার ব্যবস্থা করে তাদেরকে পরমাণু অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আমেরিকা।”
লেভারভ বলেন, “এটা সবার কাছে পরিষ্কার হতে হবে যে, মার্কিন বাহিনী রাশিয়ার বিরুদ্ধে পরমাণু হামলা চালানোর জন্য ইউরোপের দেশগুলোকে প্রস্তুত করেছে।”
তিনি আরো বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে মার্কিন পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন নিতান্তই স্নায়ুযুদ্ধের সূত্রপাত নয় বরং স্পষ্টতই আগ্রাসী অবস্থান। আমেরিকাকে একমাত্র পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে ল্যাভরভ বলেন, ইউরোপের জনগণের এই প্রবণতায় শামিল হওয়া উচিত নয়।
এদিকে রুশ সরকারের পিআইআর সেন্টারের নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান বুজিনস্কি আক্ষেপ করে বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্টের এই ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক হুমকিকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তবে আমেরিকা সেনাবাহিনীকে মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কোও। তার ভাষায়, “ইউরোপে দেদারসে পরমাণু অস্ত্র বিলাচ্ছে আমেরিকা। এসব অস্ত্র যদি ব্যবহৃত হয় তবে পৃথিবীতে একজন মানুষও জীবিত থাকবে না। আর রাশিয়ার ওপর যদি পরমাণু হামলা হয় তবে পাল্টা আঘাত করব আমরাও।”
আমেরিকার পরমাণু অস্ত্র এবং ইউরোপীয় অঞ্চলের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবেই দেখছে রাশিয়া।
সূত্র: আরটি নিউজ