
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) সারা দেশে একদিনের ‘শোক দিবস’ পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
পরদিন শুক্রবার মসজিদ-মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ মার্চ) গণভবনে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী পেস উইং গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি নেপালের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নেপালে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় ২টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ৫ মিনিট) ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে ৪ ক্রুসহ ৭১ আরোহী নিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ৫১ জন নিহত হন। যার মধ্যে ২৬ বাংলাদেশী, নেপালি ২৪ ও একজন চীনা নাগরিক রয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ২০ জনের মধ্যে বাংলাদেশী ১০, নেপালি ৯ ও একজন মালদ্বীপের নাগরিক রয়েছেন।
নেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
ঢাকা: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি শোক প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭১ জন আরোহী নিয়ে ইউএস-বাংলার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫০ জনের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাদেশি আশীষের দৃষ্টিতে বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনা
ইউএস বাংলার ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফেরার জন্য নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন বাংলাদেশি আশীষ কুমার। বিমান দুর্ঘটনার সবকিছুই খুব কাছ থেকে দেখছিলেন তিনি।
ফোনে তিনি জানিয়েছেন, ইউএস বাংলার ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফেরার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আমি বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলাম বিমানটির জন্য। সেসময় আমি বিমানবন্দরে নিজের মোবাইল দিয়ে বিভিন্ন চিত্র ধারণ করছিলাম। এসময় ইউএস বাংলার ফিরতি ফ্লাইটটি অবতরণ করছিলো, পুরোপুরি অবতরণ করতে পারেনি, মনে হচ্ছিল বিমানটি কিছুটা ঝুলছিল। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম বিমানটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।
শুধু তাই নয়, রানওয়েতে বিকট শব্দে বিমানটি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে জ্বলতে দেখা গেছে। এসময় আমি কিছু ছবিও তুলেছি, ভিডিও করেছি।
আশীষ কুমার বলেন, বিমানটি যেভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক বলেই আমার মনে হয়েছে। ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে কেউ কিছু্ বুঝে উঠতে পারেনি। প্রায় মিনিট দশেক পর সবাই বুঝতে পারে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার পরপরই নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের কথা জানিয়েছেন। এছাড়া বিমান বাহিনীর একটি দল এখনো কাজ করছে।
আশীষ কুমার বলেন, ঘটনার পরপরই বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সে করে কিছু লাশ নিয়ে যেতে দেখা গেছে। সবশেষ নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন এ পর্যন্ত ৫০ জন যাত্রী নিহত হয়েছে। তবে বিমানের পাইলট ও কো-পাইলট জীবিত আছেন।
বিমানটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ৩৩জন নেপালি ও ৩২জন বাংলাদেশি ছিল।