
আজ বিশ্ব পানি দিবস। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বর্জ্য পানি’।
দিবসটি পালনের মাধ্যমে পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সবার সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন তারা।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘পানিই জীবন, পানিই সম্পদ। কৃষি, শিল্প, উৎপাদনসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পানির গুরুত্ব অপরিসীম। বলতে গেলে পানি ছাড়া জীবন অচল। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে পর্যাপ্ত ব্যবহারযোগ্য পানি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানের বিকল্প নেই।
শস্য উৎপাদন বহুলাংশে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পগুলোর আওতাভুক্ত এলাকায় বছরে ৯৭ লাখ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য উৎপন্ন হচ্ছে যা মোট বার্ষিক উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। পানি দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে পানির অনিশ্চয়তার কারণে খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি বা বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে জনদুর্ভোগ এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এ সমস্যা সমাধানকল্পে পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নদীগুলোর ড্রেজিং এবং খাল পুনঃখনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য প্রাকৃতিক জলাধার সংস্কার, নতুন জলাধার ও ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে পানির পরিমিত ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলছে। পানি দূষণ রোধেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অতীব জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘বিশ্ব পানি দিবস ২০১৭ উপলক্ষে নদীমাতৃক বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘বর্জ্য পানি’খুবই সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে। জীবন ও পরিবেশের মৌলিক উপাদান পানি। কৃষি, শিল্প, মৎস্য ও পশুপালন, নৌ-চলাচল, বনায়নসহ জীববৈচিত্র্য পানির ওপর নির্ভরশীল। নদীমাতৃক বাংলাদেশেও সুপেয় পানির গুরুত্ব অপরিসীম।
ভূ-গর্ভস্থ পানির অত্যধিক ব্যবহার, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ন ও শিল্পায়ন, মারাত্মক পরিবেশ দূষণ, পানিপ্রবাহে কৃত্রিম বাধা সৃষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তন সুপেয় পানির উৎসকে ক্রমশ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার জন্য কৃষি, শিল্পসহ সব ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য পানির প্রাপ্যতা জরুরি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, দিবসটি পালনের মাধ্যমে পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সবার সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। সরকারি-বেসরকারি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।