
ফেনীর নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্যপদ বৈধ বলে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চ এর কার্যতালিকায় বহুলালোচিত এ মামলাটি ৪৪ নম্বর ক্রমিকে ছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ ঘোষণা দেয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে একই আদালত এই তারিখ ধার্য করেন।
কয়েকটি বেঞ্চ এই মামলা শুনতে ‘বিব্রত বোধ’ করার পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকীর একক বেঞ্চে আসে। আদালতে নিজাম হাজারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও নুরুল ইসলাম সুজন। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন কামরুল হক সিদ্দিকী ও সত্যরঞ্জন মণ্ডল।
‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীর এমপি পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করেন ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত।
তার যুক্তি ছিল, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি যদি নৈতিক স্থলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তাহলে মুক্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না।
২০০০ সালের ১৬ অগাস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় দুটি ধারায় ১০ বছর ও সাত বছর কারাদণ্ড হয় নিজাম হাজারীর, যা আপিলেও বহাল থাকে।
সে হিসেবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হলেও তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সাংসদ হয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয় রিট আবেদনে।
২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য হিসেবে নিজাম হাজারীর পদে থাকার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের বিভক্ত রায় দেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. এমদাদুল হক তার রায়ে রুল মঞ্জুর করে নিজাম হাজারীর পদে থাকাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। আর কনিষ্ঠ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান এ বিষয়ে করা রিট ও রুল খারিজ করে দেন। তার দেওয়া রায়ের অর্থ হলো- নিজাম হাজারীর এমপি পদ বৈধ।
এরপর আইন অনুসারে রিট আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে গেলে তিনি একক বেঞ্চে পাঠান। পরবর্তীকালে কয়েকটি একক বেঞ্চ বিব্রতবোধ করেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার ফেনীর নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্যপদ বৈধ বলে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে একই আদালত এই তারিখ ধার্য করেন।