
কিছুতেই থামছে না সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল। আজও রাজধানী ঢাকায় এবং রংপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নেভে গেছে আরো চার প্রাণ।
রাজধানীর ধানমন্ডি ও গেণ্ডারিয়া এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত ও এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
রবিবার সকালে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন ধানমন্ডি এলাকার আলমগীর হোসেন (৪০) ও কদমতলীর নুরুল ইসলাম (৬০)।
ধানমন্ডিতে নিহত আলমগীরের চাচাতো ভাই আল আমিন জানান, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে ধানমন্ডি থানার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় আড়ংয়ের পাশে রিকশাকে ধাক্কা দেয় একটি প্রাইভেটকার। ওই ধাক্কায় রিকশা আরোহী নিচে পড়ে যান। এরপর প্রাইভেটকারটি রিকশাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় নিচে পড়ে যাওয়া ব্যক্তিকে চাপা দেয়। এ সময় রাস্তায় থাকা লোকজন চালকসহ প্রাইভেটকারটি আটক করে। এরপর কারসহ চালককে ধানমন্ডি থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় রিকশাচালকসহ আহত যাত্রী আলমগীরকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আলমগীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রিকশাচালককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত আলমগীরের গ্রামের বাড়ি ঝালকাটির নলছিটির কাটাখালি গ্রামে। তিনি মৃত কাদের হাওলাদারের ছেলে। ঢাকার জিগাতলার ট্যানারি মোড়ে থাকতেন আলমগীর। ঝালকাঠি থেকে আসার পর জিগাতলার বাড়িতে যাওয়ার পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
পৃথক ঘটনায় নিহত হন নুরুল ইসলাম হাওলাদার। শনিবার রাতে দয়াগঞ্জ চৌরাস্তা এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন তিনি। সে সময় বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন নুরুল ইসলাম। তাৎক্ষণিকভাবে গেণ্ডারিয়া থানার এসআই রুহুল আমীন হাওলাদার তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সে সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নুরুল পটুয়াখালীর ধুমকির হাতেম হাওলাদারের ছেলে। কদমতলীর ধনিয়া বাজার এলাকায় ভাড়া থাকতেন তিনি।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার দমদমা এলাকায় নাইট কোচের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ বাস যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রবিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
রংপুর পুলিশ কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এএসআই নুরুল ইসলাম একথা জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী হিমেল পরিবহনের একটি বাস দমদমা এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে হতাহতদের উদ্ধার করে। আহত ৮ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিহত কারোরই পরিচয় জানা যায়নি।
আহত যাত্রীরা জানিয়েছেন, বাসের চালক বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও চালক তাদের কথা শোনেননি।
সালাম নামে এক যাত্রী জানিয়েছেন,চালক গাড়ি চলানোর সময় বারবার ঘুমিয়ে পড়ছিলেন। এ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম জানান, বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। আহতদের মধ্যে ৮ জনকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা. রিফাত জানান, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গতকাল গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়। সড়কে যত ধরনের বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম ও অবহেলা থাকা দরকার, তার সবকিছুই উপস্থিত ছিল দুর্ঘটনাস্থলে।
গতকাল ওই দুটি দুর্ঘটনা ছাড়াও যশোরের শার্শায় ট্রাকের ধাক্কায় দুই স্কুল শিক্ষার্থী, নাটোরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে একজন চালক ও মৌলভীবাজারের জুড়িতে অটোরিকশা উল্টে একজন নিহত হন।