
গ্রিসের একটি উপকূলে নৌকাডুবিতে পাঁচ শিশুসহ ১৬ জন নিহত হয়েছে । গ্রিসের কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে ।
শনিবার তুরস্ক সীমান্তে গ্রিসের আগাথোনিসি দ্বীপের কাছে এই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
নৌকাটিতে মোট ২২ জন আরোহী ছিল বলে জানা গেছে। তবে তাঁরা ঠিক কোন দেশের নাগরিক তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গ্রিক কোস্টগার্ড জীবিতদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
২০১৫ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় একশর বেশি অভিবাসী নৌকাডুবিতে নিহত হয়েছেন বলে গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রী দিমিত্রি ভিতসাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন। গত এক মাসে গ্রিসে এটাই সবচেয়ে বড় অভিবাসী নিহতের ঘটনা। এসব অভিবাসীদের বেশির ভাগই তুরস্ক থেকে আসা।
দিমিত্রি ভিতসাস বলেন, ‘আগিয়ান সাগরে শিশুদের এভাবে ডুবে যাওয়া আমরা সহ্য করব না। এর একটা সুষ্ঠু সমাধান দরকার। শরণার্থী এবং অভিবাসীদের গ্রিসে আসার জন্য নিরাপদ রাস্তা ব্যবহার করতে হবে। এতে করে মানবপাচার বন্ধ হবে অনেকটা।’
অন্য এক ঘটনায় গ্রিসের উত্তরাঞ্চলে গ্রিস পুলিশের অবৈধ অভিবাসীদের গাড়ি তাড়া করার সময় আরও দুজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন বলে গ্রিস পুলিশ জানায়।
২০১৬ সালে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ঠেকাতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে তুরস্কের একটি চুক্তি হয়। চুক্তিতে বলা হয় অবৈধভাবে গ্রিসে প্রবেশ করাদের তুরস্ক ফিরিয়ে নিতে হবে। যদি না তাঁরা আশ্রয়ের যথাযথ কারণ দেখাতে পারেন।
৯০ অভিবাসী নিয়ে লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি
এর আগে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি লিবিয়া উপকূলে প্রায় ৯০ জন অভিবাসী বোঝাই একটি নৌকা উল্টে গিয়ে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসী সংস্থা। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এর বরাত দিয়ে শুক্রবার বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া তিনজন অভিবাসী জানিয়েছেন যে, ডুবে যাওয়াদের মধ্যে অধিকাংশই পাকিস্তানি নাগরিক।
সমুদ্র পথে দক্ষিণ ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টারত অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া গত কয়েক বছরেই একটি বড় ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে।
ইতালী অভিমুখে অভিবাসী এবং শরণার্থীদের বহনকারী নৌকার প্রবাহ বন্ধ করার জন্য গত বছর ইইউ লিবীয় কোস্টগার্ডের সঙ্গে একটি বিতর্কিত চুক্তি করেছে।
এই অমানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইউরোপীয় সরকারগুলোকে অভিযুক্ত করেছে।
এক বিবৃতিতে আইওএম জানিয়েছে, লিবিয়ার উপকূল থেকে ১০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তানিরা ক্রমবর্ধমানভাবে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ইতালি অতিক্রম করার চেষ্টা করছে।
আইওএম বলছে, গত বছর ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের তালিকায় পাকিস্তানের অবস্থান ছিল ১৩তম। চলতি বছর এখনো পর্যন্ত দেশটি তৃতীয় অবস্থানে আছে।
সূত্র: বিবিসি
লিবিয়ায় জানুয়ারিতে বিভিন্ন সহিংসতায় ৩৯ জন নিহত
লিবিয়ায় সহিংসতায় গত জানুয়ারি মাসে ৩৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আরো ৬৩ জন আহত হয়েছে। দেশটিতে থাকা জাতিসংঘ সমর্থিত মিশন (ইউএনএসএমআইএল) বৃহস্পতিবার একথা জানায়।
মিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএসএমআইএলের হিসাব অনুযায়ী পুরো জানুয়ারি মাসে লিবিয়া জুড়ে সহিংসতায় ১০২ জন হতাহত হয়েছে। আগের মাসগুলোর তুলনায় এ সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক্ষেত্রে অধিকাংশ হতাহতের কারণ ছিল গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, বন্দুক হামলা ও গোলাবর্ষণ।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফি’র সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই লিবিয়া নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃংখলাপূর্ণ অবস্থার মধ্যে পড়ে।