
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এদেশে দুর্নীতির স্থান নেই, জঙ্গিবাদের স্থান নেই। খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেছেন, তিনি শাস্তিও পেয়েছেন। আমরা তো মামলা দেই নাই। তত্ত্বাবধায়কর সরকারের সময় মামলা দিয়েছিল, আদালত রায় দিয়েছে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই।
বুধবার চট্টগ্রামের পটিয়ার আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এসময় চট্টগ্রামে ৪১টি প্রকল্পের উদ্ধোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর দেশ এখনেউন্নয়ন শীল দেশে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে হয়েছে। আমাদের এখন আর কেউ অবহেলা করতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলেন। কিন্তু তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করল। যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে পাকিস্তানের সখ্যতা ছিল। তারাই যুদ্ধের সময় বিরোধীতা করেছে। জাতির পিতা হত্যা করার পর যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়া হয়। বাংলাদেশ কে পিছিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশ তখন অনুন্নত দেশ।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ক্ষমতায় থাকলে একটা মানুষও গৃহহারা থাকবে না। যাদের জমি আছে, তাদের টাকা দিয়ে ঘর করার ব্যবস্থা করে দেব। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
এর আগে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের নেভাল একাডেমিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ প্রতিকৃতি ভাস্কর্য এবং বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন।
বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।
এটি দেশের নৌবাহিনীর জন্য প্রথম সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ একাডেমি।
কর্ণফুলী নদীর মোহনা এবং বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এই একাডেমিতে নির্মিত অত্যাধুনিক বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সটি আধুনিক স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন।
জাহাজের আদলে নির্মিত এই কমপ্লেক্সের সামনে ৪১ ফুট উঁচু ব্রঞ্জ নির্মিত জাতির পিতার এক আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে।
এখানে ১৮ ফুট মুর্তিটিকে ২৩ ফুট উঁচু কালো বেদীর ওপর স্থাপন করা হয়েছে। যা দেখলে মনে হবে বঙ্গবন্ধু সুদুর সমুদ্র পানে তাকিয়ে আছেন।
১৬টি ভবনের সমন্বয়ে গড়ে তোলা এই কমপ্লেক্সে একাডেমিক এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি আবাসিক সুবিধা রয়েছে।
এতে ওয়ার্ডরুম, প্যাারেড গ্রাউন্ড, সুইমিং পুল, বোট পুল এবং অন্যান্য সুবিধাদি রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে কমপ্লেক্সটি গড়ে তুলতে এখানে সিম্যানশিপ, এন্টিসাবমেরিন, যুদ্ধাস্ত্র এবং কমিউনিকেশন মডেল রুম, চার্ট রুম, লাইব্রেরি, কম্পিউটার এবং ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, আধুনিক মিলনায়তন এবং সাত ধরনের বিভিন্ন ল্যাবরেটরি রয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর এই কমপ্লেক্সটি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী এখানে নৌবাহিনীর ক্যাডেট, মিডশিপম্যান এবং নৌবাহিনী স্কুল ও কলেজের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ ডিসপ্লেও উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, নৌবাহিরীর ক্যাডেট ও মিডশিপম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌবাহিনী একাডেমিতে পৌঁছলে তাকে নৌবাহিনী প্রধান চিফ এডমিরাল মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আহমেদ স্বাগত জানান।সূত্র- আরটিএনএন