
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের করা আপিলের শুনানি হবে বুধবার।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে দুদকের আপিল শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ।
এর আগে গত রবিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে আপিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম খান জানান, এ মামলায় বয়স, শারীরিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রধান আসামিকে দেয়া হয়েছে ৫ বছর কিন্তু সহযোগীদের দেয়া হয়েছে ১০ বছর করে সাজা। সুতরাং প্রধান আসামির সাজাটা অপর্যাপ্ত মনে করে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে আপিল করেছে দুদক।
জানা গেছে, ১৯ মার্চ সোমবার দুদকের এক সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দুদক আইনজীবীদের এ সংক্রান্ত সব আইনগত প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।এ মামলায় তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।
রায়ে বলা হয়, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রামাণিত হলেও বয়স ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর সাজা দেয়া হল।
জানা গেছে, দুদকের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার দণ্ড ১০ বছর করতে আবেদন করা হয়েছে।
আরো পড়ুন…
খালেদার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার গুরুত্বপূর্ণ: ব্রিটিশ এমপি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিচারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ব্রিটেনের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস-এর রক্ষণশীল দলের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য অ্যানথিয়া ম্যাকনিটায়ার।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে অ্যানথিয়া ম্যাকনিটায়ার এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে বলতে চাই, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করার বিষয়টি আমার মনোযোগে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়ায় বিচার লাভের অধিকার রয়েছে। দেশটিতে বিচার বিভাগকে হতে হবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। একটি নিরপেক্ষ আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে সাধারণ নাগরিকরা কিংবা বেগম জিয়ার মতো বিশিষ্ট নাগরিক যে-ই হোন তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার লাভ করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিষয়াবলি নিয়ে আমার যে আগ্রহ রয়েছে তার অংশ হিসেবে আমি বেগম জিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ বজায় রাখবো।’