
এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাজার হাজার লাইবেরীয় অভিবাসীর সুরক্ষা অধিকার বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনিক নির্দেশে আড়াই লাখ সালভাদর, হাইতিয়ান ও নিকারাগুয়ান নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হয়েছে।
১৯৯১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় গৃহযুদ্ধ চলাকালে বেশ কিছু লাইবেরিয়ান নাগরিক দেশ ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের অস্থায়ী সুরক্ষিত অবস্থা প্রদান করে দেশটিতে নিরাপদে থাকার অনুমতি দিয়েছিল।
১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ১০ হাজার লাইবেরিয়ান নাগরিককে ডিইডি স্ট্যাটাস দিয়ে নতুন জীবন দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামাও তাদের পুনরায় ডিইডি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই স্ট্যাটাস প্রত্যাহার করে লাইবেরিয়ানদের দেশে ফেরত যাওয়ার নির্দেশ জারি করেছেন।
যে কারণে ৬০ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করল যুক্তরাষ্ট্র
হঠাৎ পুরো বিশ্বের চোখ রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে সরে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ৬০ রুশ কূটনীতিককে আকস্মিক বহিষ্কারের ঘোষণায় ট্রাম্প-পুতিনের সম্পর্ক নিয়ে পুনরায় বিশ্বে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা যায়, যুক্তরাজ্যে একজন সাবেক গুপ্তচরকে বিষ (নার্ভ এজেন্ট) প্রয়োগের ঘটনায় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ৬০ জন কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে সিয়াটলে রাশিয়ার কনস্যুলেট বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইউক্রেনও রাশিয়ার কূটনীতিকদের বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে যে, তারা ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্ক থেকে ৬০ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করছে।
এর আগে জার্মানিও ঘোষণা করেছে যে তারা চার জন রুশ কূটনীতিকে বহিষ্কার করছে। খবর বিবিসির।
তিন সপ্তাহ আগে ব্রিটেনে একজন সাবেক রুশ ডাবল এজেন্ট সেরগেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ের ওপর নার্ভ এজেন্ট দিয়ে যে আক্রমণ হয়- তার প্রতিক্রিয়াতেই পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে এসব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমাবার এই আদেশ দেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
কূটনীতিকদের বহিষ্কারের পাশাপাশি সিয়াটলে অবস্থিত রুশ কনস্যুলেট বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বহিষ্কৃত ৬০ জন কূটনীতিকের মধ্যে ৪৮ জন রাশিয়া দূতাবাস এবং বাকি ১২জন নিউইয়র্কে জাতিসংঘে কর্মরত আছেন। তাদের সাতদিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ৪ মার্চ রাশিয়া সামরিকবাহিনীর ব্যবহৃত বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করে এক ব্রিটিশ নাগরিক ও তার মেয়েকে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমাদের মিত্রদেশ যুক্তরাজ্যে এই হামলা অংসখ্য নিরাপরাধ মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে এবং হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে এই হামলাকে রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
জার্মানি ও ফ্রান্স চারজন করে রুশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশও এমন পদক্ষেপ নিতে পারে। এসব ইউরোপীয় দেশের মধ্যে রয়েছে লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া ও চেক রিপাবলিক।
গত ৪ মার্চ যুক্তরাজ্যের সালিসবুরির একটি পার্কের কাছ থেকে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের স্নায়ু অকেজো করে দেয় এমন বিষাক্ত রাসায়নিক নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এই দ্বৈত গুপ্তচর ২০১০ সাল থেকে যুক্তরাজ্য অবস্থান করছেন। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে রাসায়নিকের প্রভাবে এক পুলিশ কর্মকর্তাও আহত গুরুতর আহত হন।
এই ঘটনা যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ককে সংকটের মধ্যে ফেলেছে। এ ঘটনার পর ২৩ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এর জবাবে তখনই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়াও ২৩ ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশটিতে থাকা ব্রিটিশ কাউন্সিল ও সেন্ট পিটার্সবার্গের ব্রিটিশ কনস্যুলেট।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ঘটনায় রুশ সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগকে সম্পূর্ণ বানোয়াট, নোংরা ও অর্থহীন’ অ্যাখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। হত্যা চেষ্টার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ‘অখণ্ড সংহতি’ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক যৌথ বিবৃতিতে এই সংহিত প্রকাশ করা হয়।