
নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপনের সমালোচনার বিষয়ে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, ‘আমার ব্যক্তিগত খরচের কথা যদি বলেন তাহলে বলব আমি একজন ধনী মানুষ, গরিব নই। আমি গান্ধী বা ম্যান্ডেলা নই।
রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে এ কথা জানান সৌদি যুবরাজ।
অনুষ্ঠানে সালমানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নারীরা কি পুরুষের সমান। জবাবে তিনি বলেন, পুরোপুরি। আমরা সবাই মানুষ এবং এখানে কোনও পার্থক্য নেই।
সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ জানিয়েছেন, সরকার নারীদের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করতে নিয়ম জারি করার জন্য কাজ করছে।
সালমানের নেতৃত্বে এসব সংস্কারের পরও দেশটির নারীরা তথাকথিত পুরুষের অভিভাবকত্বের অধীনে রয়েছেন। এই আইনে নারীদের জীবনের নিয়ন্ত্রক পুরুষ আত্মীয়রা। এর ফলে নারীরা একা বিদেশে ভ্রমণ করতে পারেন না এবং নির্দিষ্ট ধরনের মেডিক্যাল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
ক্ষমতায় থাকতে মাকে ‘বন্দী’ করেছেন সৌদি যুবরাজ
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে রহস্যজনকভাবে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মা ফাহদা বিনতে ফালাহ আল হাতলেনেকে। অভিযোগ উঠেছে দেশটির যুবরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান তার মাকে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘বন্দী’ করে রেখেছেন। এমনকি তার মাকে বাবা সৌদি বাদশা মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও দেখা করতে দেন না। মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি ও ব্রিটিশ গণমাধ্যম টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ফাহদা বিনতে ফালাহ আল হাতলেনে ৮২ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমানের তৃতীয় স্ত্রী। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে মায়ের ‘উধাও’ হওয়ার বিষয়ে নানা ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন সালমান। তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে তার চিকিৎসা চলেছে।
তবে সৌদি সরকার গণমাধ্যমের এ খবরকে নাকচ করে দিয়েছে। ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাসের একজন মুখপাত্র এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, এটা সত্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, তারা বিশ্বাস করেন ক্ষমতা দখলে যুবরাজের পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন এবং বাদশাহকে প্রভাবিত করতে পারেন এ আশঙ্কায় যুবরাজ তার মাকে লুকিয়ে রেখেছেন।
উল্লেখ্য, গত বছর চাচাতো ভাইকে রাজ্যের যুবরাজের পদ থেকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন ৩১ বছর বয়সী মুহাম্মদ বিন সালমান। এরপরই তিনি দুর্নীতি দমনের নামে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীসহ পরিবারের অপর সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে থাকেন।
দেশটির শীর্ষ ধনী প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালালকেও গত নভেম্বরে আটক করা হয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি সেনাবাহিনী ও প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করেন।