সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে প্রধান বিচারপতি

২২তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন প্রথম কার্যদিবসে সুপ্রিম কোর্টের নিজ কার্যালয়ে এসেছেন। নবনিযুক্ত প্রধান বিচরপতিকে অভ্যর্থনা জানান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেলসহ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

রবিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট ভবনের মূল ফটকে আসলে এই অভ্যর্থনা জানান তারা।সকাল সাড়ে ১০ টায় প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

শুক্রবার আপিল বিভাগের দ্বিতীয় জেষ্ঠ্য বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শনিবার প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

ফিরে দেখা বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের জীবন
দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেবেন তিনি। তিনি বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার স্থলাভিষিক্ত হলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তবে প্রবীণতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিঞাকে জৈষ্ঠ্যতা লংগন করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়।

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সৈয়দ মুস্তফা আলী এবং মায়ের নাম বেগম কাওসার জাহান। তার জন্মস্থান কুমিল্লা। তিনি বিএসসি ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া লন্ডন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ওরিয়েন্টাল আফ্রিকান স্টাডিজ এবং ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড লিগ্যাল স্টাডিজ থেকে ছয় মাসের ‘কমনওয়েলথ ইয়াং ল ইয়ার্স কোর্স’ করেন। ১৯৯৯ সালে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান।

বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হন। আর ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি একই বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর পর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দুইবার নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য করা সার্চ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ টাইব্যুনালেরও চেয়ারম্যান ছিলেন।

আপিল বিভাগের পাঁচজন বিচারপতির মধ্যে মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ । জ্যেষ্ঠতা বিবেচনায় তার পরেই ছিলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

এর আগে দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করেন। প্রধান বিচারপতি হিশেবে তার দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

কিন্তু সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনার প্রেক্ষাপটে গত ৯ নভেম্বর সিঙ্গাপুর থেকে কানাডা যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। গত ১০ নভেম্বর সে পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে এসে পৌঁছায়। বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অবর্তমানে সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রবীণতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিঞা বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।