
মায়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন সফররত সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বারসেট। এসময় রোহিঙ্গারা মায়ানমারের বর্বরতার বর্ণনা দেন।
মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সুইস এয়ারফোর্সের একটি বিশেষ বিমানে সফরসঙ্গীতের নিয়ে কক্সবাজার বিমান বন্দরে পৌছেন সুইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বারসেট। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শামিম আহসান, চিফ অব প্রটোকল একেএম শহিদুল করিম।
কক্সবাজার বিমান বন্দরে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বারসেটকে স্বাগত জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থী কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ আবুল কালাম, জেলা প্রসাশক মোহাম্মদ আলী হোসেনসহ আইওএম, ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন আন্তজার্তিক ও বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিরা।
বিমান বন্দর থেকে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বারসেট ও তার সফর সঙ্গীরা কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। হাসপাতালে তিনি সুইজারল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে একশতটি উন্নত মানের বেডসহ বিভিন্ন চিকিৎসার সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসার সর্ম্পকে কর্তব্যরত ডাক্তারদের কথা শোনেন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে দুপুর বারোটার দিকে কক্সবাজার শহর থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বারসেট ও তার সফর সঙ্গীরা।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং এসে পৌছেন সুইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বারসেট। প্রথমে কুতুপালং ডিপোর আইওএম হাসপাতাল পরিদর্শণ করেন এবং ইউনিসেফ স্থাপিত শিশু বান্ধব সেন্টার পরিদর্শন করেন তিনি। ক্যাম্পের রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
এরপর কুতুপালং ডি-৫ এরিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন অ্যালেইন বারসেট। পরে তিনি মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষদের সঙ্গেও সাথে কথা বলেন। এসময় রোহিঙ্গারা রাখাইনে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বরতা, গণহত্যা, ধর্ষণসহ ভয়াবহ ঘটনার বর্নণা দেন। এছাড়াও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় শিবিরের কিভাবে জীবনযাপন করছেন তাও তুলে ধরেন।
এইসময় রোহিঙ্গারা জানান, মায়ানমার তাদের নাগরিকত্ব, স্বাধীন জীবন-যাপন, জায়গার জমিসহ বসতভিটার ফিরিয়ে পাওয়ার নিশ্চয়তা পেলে তারা ফিরে যাবেন।