
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন হুমকি দিয়ে বলেছেন, সিরিয়া সরকার দেশটিতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে প্রমাণিত হলে সেদেশের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মঙ্গলবার এক বক্তৃতায় এ হুঁশিয়ারি দেয়ার পাশাপাশি ম্যাকরন একথাও বলেছেন, প্যারিস এখনক পর্যন্ত সিরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো প্রমাণ পায়নি।
এর আগে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্লোরেন্স পারলি শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, দামেস্ক সিরিয়ার জনগণের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এমন তথ্য নিশ্চিতকারী কোনো দলিল প্যারিসের হাতে আসেনি।
আমেরিকা ও তার মিত্ররা সিরিয়ার বিভিন্ন রাসায়নিক হামলার জন্য দামেস্ক সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে সেদেশের ইদলিব প্রদেশের খান শেইখুন এলাকায় চালানো রাসায়নিক হামলার জন্য সিরিয়া সরকারকে দায়ী করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। ওই হামলায় অন্তত ১০০ মানুষ নিহত হয়।
সিরিয়া সরকার শুরু থেকে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো সিরিয়া ও ইরাকে বহুবার রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সিরিয়া সরকারের উল্লেখযোগ্য বিজয় থেকে বিশ্ব জনমতকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের অভিযোগ আনছে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি বলেছে, উগ্র জঙ্গিদেরকে রক্ষা করার লক্ষ্যে দামেস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের।
যৌন হয়রানি রুখতে আইন করলো ফ্রান্স সরকার
ফ্রান্স দুই হাজার বছরের বেশি ঐতিহ্যের অধিকারী বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক নগরী। মানবাধিকার, রাজনীতি, শিক্ষা, বিনোদন,গণমাধ্যম, ফ্যাশন, বিজ্ঞান ও শিল্পকলা— সব দিক থেকে প্যারিসের গুরুত্ব ও প্রভাব এটিকে অন্যতম বিশ্ব নগরীর মর্যাদা দিয়েছে।
নারী ও পুরুষের সমানতালে উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে সমৃদ্ধ করছে দেশটির অর্থনীতি, সরকারি অফিস আদালত ও সংস্থাগুলোতে নারীদের সরব উপস্থিতি পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছে বহু আগে। এবার প্রকাশ্যে নারীদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা নিশ্চিত করতে ও যৌন হয়রানি রুখতে আইন করেছে ফ্রান্স সরকার।
এই আইনের আওতায় নারীদের নিয়ে কোনো রকম কু-মন্তব্য করলেই ৯০ ইউরো বা ৯ হাজার ৩১৪ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করেছে প্যারিসের প্রশাসন।
আইনে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে যদি কেউ কোনোভাবে নারীদের সঙ্গে অপমানজনক ব্যবহার করে তাহলেই সেই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সাধারণ মানুষও হতে পারে। হতে পারেন কোনো বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। তবে যেই হন না কেন, শাস্তির বহর কিন্তু ব্যক্তি বিশেষে বদলাচ্ছে না। শাস্তি একটাই। নারীদের কোনোভাবে হেনস্তা করলেই দিতে হবে ৯০ ইউরো জরিমানা।
সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে অনেক অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তবে ওই পর্যন্তই। দিন দুয়েক জেলে কাটিয়ে ছাড়া পেয়ে গেছে সেই কীর্তিমান। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত কাজে নেমে পরে প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা। রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে বসা হয়। তারপরেই এই সিদ্ধান্তে নেয় ফ্রান্স সরকার।
যৌন আগ্রাসন রুখতে চালু হওয়া সরকারি পদক্ষেপে সমর্থন জানিয়েছে প্যারিসের প্রত্যেক রাজনৈতিক দল।
উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই নারীদের যৌন হয়রানি সংক্রান্ত খবরে উত্তাল হয়েছিল প্যারিস। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছিল। প্রকাশ্যে রাজপথেই নারীরা যৌন হেনস্থার শিকার হচ্ছিলেন। একাকি নারী দেখলেই আক্রমণ করছিল দুর্বৃত্তরা। পুলিশি সক্রিয়তা বাড়লেও হেনস্তার ঘটনা রুখে দেওয়া যায়নি।