
সংঘাতপ্রবণ রাখাইনের একটি গ্রামে রোহিঙ্গা মুসলমানদের পাঁচটি গণকবর থাকার খবর অস্বীকার করেছে ময়ানমার সরকার। তবে তারা দাবি করে, ১৯ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যার পর সেখানে কবর দেয়া হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) সম্প্রতি বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা শরণার্থীর বক্তব্য এবং মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে জানায় যে, রাখাইনের গু দার পিইয়িন গ্রামে সেনারা বেপরোয়াভাবে মানুষ হত্যা করেছিল এবং সেখানে পাঁচটি গণকবর রয়েছে যেগুলোর কথা আগে জানা যায়নি।
মায়ানমারের তথ্য কমিটি শনিবার ফেসবুকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকারের তদন্ত দল এপি’র খবরে সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রামে গিয়ে সেরকম কিছু পায়ন। বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘তদন্তদল নিয়মনুযায়ী গু দার পিইয়িন গ্রাম নিয়ে এপি’র প্রতিবেদনের ব্যাপারে তদন্ত করেছে, সংশ্লিষ্ট গ্রামের বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং প্রতিবেদনটি সত্য নয় বলে প্রমাণ পেয়েছে।’
এপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মায়ানমারের সেনারা এবং বৌদ্ধ উগ্রপন্থিরা বন্দুক, চাকু, রকেট লঞ্চার এবং গ্রেনেড নিয়ে দেশটির রাখাইন রাজ্যে অবস্থিত গ্রামটিতে বর্বর হামলা চালায় এবং মরদেহগুলো বিভিন্ন গর্তে জড়ো করে অ্যাসিড ঢেলে পুড়িয়ে দেয়। সংশ্লিষ্ট গ্রামটির স্যাটেলাইট ছবিও প্রকাশ করেছে এপি, যেখানে ধ্বংসযজ্ঞের আলামত রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সেই গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার সাক্ষাৎকারও নেয়া হয়েছে যেখানে তারা দাবি করেছেন যে, গ্রামটির চারশ’র মতো বাসিন্দাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা, ত্রাণ এবং পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় ক্যাম্প তৈরির কাজ করছে৷ পুরো অঞ্চলটিকে ঘিরে দেওয়া হয়েছে কাঁটাতার দিয়ে। ক্যাম্পে জাতিসংঘের তরফ থেকে এইড দেওয়া হবে৷ তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, তাদের এইড প্রদানকারী সংস্থাকে ক্যাম্পে ঢোকার সমস্ত ব্যবস্থাপনা করে দিতে হবে। ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্যাম্পে থাকতে পারবেন।
মায়ানমারের তথ্য কমিটি অবশ্য জানিয়েছে, গত আগস্টের ২৮ তারিখ গ্রামটিতে নিরাপত্তা বাহিনী এবং রোহিঙ্গা জঙ্গিদের মধ্যে প্রাণঘাতি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে ১৯ জন ‘সন্ত্রাসী’ প্রাণ হারায়।
উল্লেখ্য, মায়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে৷ তবে সেনাবাহিনীর দাবি, তারা রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দমনে রাখাইনে অভিযান চালিয়েছে। গত আগস্টে সেই অভিযোগ শুরুর পর থেকে এখন অবধি সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রাখাইনের পরিস্থিতি তদন্তে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বা জাতিসংঘের তদন্তদলকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যেতে দিচ্ছে না মায়ানমার সরকার।