
যুক্তরাজ্যে চরমপন্থীদের মোকাবেলা করার জন্য গঠিত একটি নতুন কমিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দেশটির বিশিষ্ট একজন মুসলিম নারীকে নিয়োগ দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, চরমপন্থা-বিরোধী নতুন কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন বিশিষ্ট ক্যাম্পেইনার সারা খান।
এই নিয়োগ সম্পর্কে সারা খান বলেন, ‘চরমপন্থার মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জের ভারটি আমি উপলব্ধি করতে পারছি। এই দায়িত্ব পালন করতে আমি গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের আকাঙ্খিত মূল্যবোধ, মৌলিক স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের নামে যারা চরমপন্থাকে উসকে দিচ্ছে তাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমি একটি কমিশন গঠন করব। চরমপন্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে আমি তাদের সহযোগিতা করতে আগ্রহী।’
ব্রিটিশ এই মুসলিম নারী বলেন, ‘আমাদের বহুবিচিত্র দেশকে রক্ষা করতে এবং ব্রিটেনের নির্মাণে কমিশনের কাজকে সমর্থন করার জন্য সবার সঙ্গে আমি আমার হাতকে বাড়িয়ে দেব। যারা ঘৃণা প্রকাশ করে এবং আমাদের পৃথক করতে চায় তাদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ প্রদর্শন করা হবে।’
এই পদ তাকে ‘সম্মানিত ও বিনীত’ করেছে বলেও জানান চরমপন্থী বিরোধী ও নারী অধিকার কর্মী সারা খান।
তিনি ‘ইন্সপায়ার’ বা ‘অনুপ্রেরণা’ নামে একটি প্রচারণা প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তার ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, তিনি ইসলামি চরমপন্থার বিরুদ্ধে ও মানবাধিকার প্রচারে যুক্তরাজ্যের নেতৃস্থানীয় একজন মুসলিম নারী।
তার নিয়োগের ঘোষণায় স্বরাষ্ট্র সচিব অ্যাম্বার রুড বলেন, ‘চরমপন্থা বিরোধি এই কমিশন সরকারের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি সব ধরনের চরমপন্থার রুখতে কাজ করবে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের নেতৃত্বের জন্য সারা খান দক্ষতার সঙ্গে তার যোগ্যতা অর্জন করেছে।’
সারা খানকে তিন বছরের মেয়াদে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী মাসে তার এই পদে দায়িত্ব নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
যুক্তরাজ্য ছাড়ছেন ইউরোপীয় দেশগুলোর নাগরিকরা!
অধিক সংখ্যায় যুক্তরাজ্য ছাড়ছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকরা। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে আঞ্চলিক এ সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোর ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ যুক্তরাজ্য ছেড়ে গেছেন। ২২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সরকারের জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অঞ্চলটির নাগরিকরাও দেশটি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় অভিবাসীর সংখ্যা কমলেও বেড়েছে ইইউ-এর সদস্য নয়-এমন দেশগুলোর অভিবাসী সংখ্যা। অবশ্য সব মিলিয়ে মোট অভিবাসীর সংখ্যা কমেছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে দেশটিতে মোট অভিবাসীর সংখ্যা ২৯ হাজার কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার। অর্থাৎ একই সময়ে যত সংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেছেন তার চেয়ে ২৯ হাজার কম মানুষ দেশটিতে পাড়ি জমিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকরা অধিক সংখ্যায় যুক্তরাজ্য ছাড়লেও দেশটির অভিবাসন নীতি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ইউরোপের বাইরের দেশগুলো থেকে দেশটিতে পাড়ি দেওয়া ব্যক্তিদেরও।
জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের এ প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন আগে বুধবার ব্রিটিশ সরকারের ‘অন্যায্য’ অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন দেশটিতে বসবাসরত একদল ‘নন ইউরোপিয়ান’ পেশাজীবী। লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে তারা এ বিক্ষোভে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ব্রিটিশ সরকারের অভিবাসন নীতি দেশটিতে তাদের ‘রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস’কে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।