
পেটে ক্ষুধা থাকলে অন্য সমস্যা আর সমস্যা মনে হয় না। তাই আন্দোলনে আছি থাকবো। কথাগুলো বলছিলেন শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া এক শিক্ষিকা।
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকেরা। শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সপ্তম দিনের অনশন করছেন শিক্ষকরা।
এদিকে, গোসল ও প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে সমস্যায় রয়েছেন মহিলা শিক্ষকরা। এ বিষয়ে সংগঠনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক লীলা রানি দাস বলেন, ‘বাথরুমের সমস্যা সব থেকে বেশি হচ্ছে। সেই সাথে অনেক দিন গোসল না করায় শরীর বেশি খারাপ লাগছে।’
এতো সমস্যা নিয়েও কীভাবে অবস্থান করছেন? জবাবে বলেন,‘পেটে ভাত না থাকলে অন্য সমস্যা আর সমস্যা মনে হয় না। তাই আন্দোলনে আছি থাকবো।’
এছাড়া শীতের কারণে অধিকাংশ শিক্ষকের জ্বর ও কাশি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৭০ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন ৩০ জন।
আমরণ অনশনে থাকা শিক্ষকদের দেখতে গত ৩০ জানুয়ারি গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুইজন অতিরিক্ত সচিব ও একজন একান্ত সচিবরা আসেন।
এই তিন সচিব শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক বলে সমর্থন দিয়ে তাদের অনশন ভাঙ্গার কথা বলেন। কিন্তু শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘোষণা বাস্তবায়ন ছাড়া ঘরে ফিরবে না। তাদের একটাই চাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কেউ এসে তাদের আশ্বস্ত করুক।
বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আ স ম জাফর ইকবাল জানান, ৯ জানুয়ারি ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। তখন শর্ত ছিলো নিজস্ব জমি থাকতে হবে।
এদিকে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের স্কুলের জমি সরকারের নামে লিখে দিয়েছেন। এরপরে চার হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়। কিন্তু অধিক সংখ্যক স্কুল জাতীয়করণ না হওয়ায় অপেক্ষায় ছিলেন তারা। কিন্তু তাদের অপেক্ষা শেষ না হওয়ায় রাস্তায় এসে বসেছেন বলে জানান সংগঠনের দফতর সম্পাদক মো. আশরাফুল আলম।
তিনি বলেন, ‘মরতে হয় মরবো, তবুও জাতীয়করণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবো না।’
উল্লেখ্য, তৃতীয় ধাপে বাদ পড়া সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচির পর ২৩ জানুয়ারি থেকে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি ও ২৭ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন চলছে।