
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তপ্ত ফোনালাপের পর ওয়াশিংটন সফর স্থগিত করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নেইতো। দেশ দুটির কর্মকর্তারা বলেন, বুধবার তাদের মধ্যে ফোনালাপ হয়।
এ সময়ে নেইতো অনুরোধ করেন, ট্রাম্প যেন সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের অর্থ মেক্সিকোর কাছ থেকে আদায় করতে জনসমক্ষে প্রতিশ্রুতি না দেন। কিন্তু নেইতোর অনুরোধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রত্যাখ্যান করলে তিনি সফর স্থগিত করেন।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছেন, সীমান্ত সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়াল নির্মাণে তার দেশ কোনো অর্থ দেবে না। এটিকে তিনি তার দেশের সঙ্গে গর্হিত আচরণ বলে মনে করেন।
আগামী মার্চে নেইতোর ওয়াশিংটন সফরের কথা ছিল। কিন্তু দুই প্রেসিডেন্টের ফোনালাপের পর সেই সফর স্থগিত করা হয়।
এক ম্যাক্সিকান কর্মকর্তা বলেন, বুধবার নেইতোর সঙ্গে ফোনালাপে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেজাজ বিগড়ে যায়। কারণ তার কাছে মনে হয়েছে, নেইতো অযৌক্তিক কথা বলছেন। তিনি ভেবেছেন, ম্যাক্সিকান প্রেসিডেন্ট তাকে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরিয়ে নিতে চাচ্ছেন।
অভিবাসন নিয়ে কংগ্রেস কঠোর না হলে সরকারি দপ্তর বন্ধ চান ট্রাম্প।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন যে কংগ্রেস যদি অভিবাসনের বিষয়ে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপে রাজি না হয়, তা হলে আরো একবার ফেডারেল সরকারের কাজ কর্ম বন্ধ হওয়াকে তিনি বরং মেনে নেবেন।
হোয়াইট হাউজে আলোচনার সময়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা যদি আইন পরিবর্তন না করি, যদি আমরা সেই সব ফাঁক ফোকর বন্ধ না করি যার কারণে ঘাতকদের আমাদের দেশে আসতে দেওয়া হয় এবং তারা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং আমরা যদি তা বন্ধ করতে না পারি, তা হলে সরকারি দপ্তর বন্ধই হোক।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারি দপ্তরের কর্মকাণ্ড সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই সম্ভাবনা সম্পর্কে ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে আসলো যখন এই সাময়িক ব্যয় বরাদ্দের সময় শেষ হবার মাত্র দু দিন আগে নতুন করে স্বল্প সময়ের অর্থ বরাদ্দের ব্যাপারে সরকারি বিধায়করা হিমসিম খাচ্ছেন।
২০১৩ সালের পর এই প্রথম জানুয়ারির মাঝামাঝি সাময়িক ভাবে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, যার কারণ ছিল , বিতর্কিত অভিবাসন নীতি। হোয়াইট হাউজ মুখপাত্রী সারাহ হাকাবী স্যান্ডার্স বলেন, প্রেসিডেন্ট সরকারি দপ্তর বন্ধ করার পক্ষে বলছেনন না , সেটার কারণ ডেমক্র্যাটরা তাদের দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করছেন না।
সূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা
মেলানিয়ার হাত ফসকে যাওয়ায় ট্রাম্পকে নিয়ে কেন এতো হৈ চৈ!
হোয়াইট হাউজ থেকে বের হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। মেলানিয়ার পরনে একটি লম্বা হলুদ রঙের ওভারকোট। পথচলার এক ফাঁকে স্ত্রীর হাত ধরতে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ব্যর্থ হন।
ট্রাম্প দম্পতির এমন অপ্রস্তুত হওয়ার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছে এনবিসি নিউজ চ্যানেলের ফটোসাংবাদিক। এনবিসি নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক স্বাভাবিকভাবেই খবরের জন্যই সেখানে অপেক্ষা করেছিলেন। তিনি ট্রাম্পের এম অপ্রস্তুত হওয়ার ভিডিও টুইটারে পোস্ট দেন। এরপরই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। কেন এমন হলো, এর নানান ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে শুরু করেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
এবিসির খবরে বলা হয়, হোয়াইট হাউস থেকে ওহাইও যাবেন ট্রাম্প দম্পতি। সেখানে যাবেন মেরিন ওয়ানে চড়ে। মেরিন ওয়ানে ওঠার জন্য লম্বা হলুদ ওভারকোট দুই কাঁধে চাপিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে একসঙ্গে হাঁটছিলেন ফার্স্ট লেডি। এ সময় কোটের মধ্যে থাকা স্ত্রীর হাত ধরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু খুঁজে পাচ্ছিলেন না মেলানিয়ার হাত। ওভারকোট দুই কাঁধে চাপানো মেলানিয়া হাত সরিয়ে নেন। মুহূর্তেই অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এ অপ্রস্তুত হয়ে পড়া ঠেকাতেই জনতার উদ্দেশে হাত নাড়তে থাকেন তিনি। কিন্তু এ দৃশ্য ধরা পড়ে যায়।