মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন
১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনামঃ
পলাশবাড়ীতে ইউএনও’র গাড়ির ধাক্কায় শিশু গুরুতর আহত, প্রশ্নের মুখে দায়িত্ব ও মানবিকতা সাদুল্লাপুরে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ের স্বপ্ন পূরণ গোবিন্দগঞ্জে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র গাইবান্ধায় সকল জরুরী কার্যক্রম চলমান ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে গাইবান্ধার সদর উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকল জরুরী কার্যক্রম চলমান গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে প্রাণখোলা ঈদ আড্ডা ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে সাদুল্লাপুর উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকল জরুরী কার্যক্রম চলমান সাংবাদিকতা পেশা কতিপয় ব্যক্তির কারণে বিতর্কিত: তথ্যমন্ত্রী পলাশবাড়ীর ৩ ফিলিং স্টেশনে রেজিস্টার পরিদর্শন, পরিমাপ যাচাই না করায় প্রশ্ন লালমনিরহাট জেলা শহরে বাস-অটো সংঘর্ষে আহত ৮

ঈশ্বর আসলে কে, এই কৌতুহল আমাকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসে

  • আপডেট হয়েছে : মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

 

মর্নিং ওয়ার্কের জন্য কাতজা তার বন্ধু আহমেদের জন্য রেস্টুরেন্টে বসে অপেক্ষা করছেন আর একটু একটু করে কফিতে চুমুক দিচ্ছেন। এমন সময় সূর্যের আলো তার ফ্যাকাশে চামড়া উপর ঝিকমিক করছিল। বন্ধু আহমেদ সকালের প্রার্থনার মসজিদে যাওয়ায় তাকে সেখানে বসে অপেক্ষা করতে হচ্ছিল।

আযান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেস্টুরেন্টের ওয়েটাররা ধীরেসুস্থে মসজিদটির দিকে এগিয়ে যায়। মিশরের এই দৃশ্য তাকে আবেগে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এটি যে তার রাশিয়ার কানস্ক শহর থেকে অনেকটাই আলাদা। রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় তুষারময় শহর কানস্ক শহর ছেড়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক সফরের জন্য তাকে মিশর যেতে হয়েছিল।

শিশুদের জন্য একটি এনজিওতে কাজ করার কাদজা সেখানে ৪০ দিন ব্যয় করেছিলেন। এসময়ে তিনি সেখানে অসংখ্য মুসলিম বন্ধু তৈরি করেন। তিনি এসব মুসলিমের জীবন ধারাকে অত্যন্ত কাছ থেকে দেখতে পান। এরপর হঠাৎ করেই তার মনে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

তিনি বলেন, ‘আমি ছিলাম একজন অর্থডক্স খ্রিস্টান। কিন্তু আমি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করি নি এবং হঠাৎ করেই আমি প্রায় সব কিছু নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করি। ঈশ্বর সম্পর্কে আমার মুসলিম বন্ধুদের কথা আমার মনে আগ্রহ জন্মায়। এই ঈশ্বর আসলে কে- তা জানতে আমি অত্যন্ত কৌতুহলী হয়ে উঠি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সেখান থেকে রাশিয়ায় ফিরে আসার পর আমি পুনরায় মিশরে ফিরতে ছটফট করতে থাকি। আমি কিছুতেই রাশিয়ায় অবস্থান করতে পারছিলাম না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করা মাত্রই আমি মিশরে ফিরে আসি।’

কোনো চাকরি বা থাকার জায়গা নিশ্চিত না হওয়া সত্ত্বেও ২১ বছর বয়সী শিক্ষক কায়রোতে চলে যান এবং ‘আধ্যাত্মিক যাত্রা’ শুরু করেন।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এটি ছিল এমন একটি মুহূর্ত যে সময়ে আমি বুঝতে পারছিলাম না কি করতে হবে। আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করেছিলাম: জীবনের উদ্দেশ্য কী, কেন আমি এখানে? আমার ভিতরে এমন এক শূন্যতা ছিল যা আমার চারপাশের সবকিছুকে প্রভাবিত করেছিল।’

কাতজা’র অনুসন্ধান প্রথমেই তাকে ক্যাথলিক চার্চে নিয়ে যায়। তিনি তার একজন বন্ধুকে নিয়ে চার্চের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু রাশিয়ান একটি মুসলিম পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার সবকিছুই পরিবর্তিত হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমি অন্য ধর্ম গ্রহণ করতে পারতাম, কিন্তু ইসলাম আমার অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিল এবং সঠিক ও ভুল সম্পর্কে আমার মধ্যে যে যুদ্ধ চলছিল তা বন্ধ করে দিয়েছে। ইসলাম খুবই স্পষ্ট এবং যখন আপনি ভয় ও কঠিন চাপের মধ্যে থাকেন, তখন এটি আপনার আত্মাকে শান্তি দেয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি যা পছন্দ করি তা হচ্ছে আল্লাহর কাছে যাওয়ার রাস্তা। আমি বুঝতে পারছিলাম যে আমি প্রার্থনা করতে চেয়েছি, কিন্তু কিভাবে করতে হবে আমি তা জানতাম না। ইসলামে একটি নির্দিষ্ট ধর্ম পদ্ধতি রয়েছে। আপনাকে নির্দিষ্ট পোশাক পরতে হবে এবং একটি নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে বসতে হবে। এটি শিক্ষা দেয় যে আপনাকে আপনার জীবন আল্লাহর জন্য ত্যাগ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এটা অনেকটা আপনার স্বামী থাকার মতোই। সম্পর্ক লালন পালন করতে একে অপরকে কিছু সময় উৎসর্গ করতেই হবে।’

ধর্মান্তরের পর কাতজা তার জীবনধারার মধ্যে এক অসাধারণ পরিবর্তনকে লক্ষ্য করেন নি এবং উপলব্ধি করতে পারেন- কেন তার বন্ধুরা সবসময় বলত যে ধর্মান্তর আগেই তিনি একজন মুসলিম চিন্তার মানুষে পরিণত হয়েছেন।

কাতজা বলেন, ‘আমি অ্যালকোহল পান করতাম না। আমি এমন এক সংস্কৃতি থেকে এসেছি যেখানে অধিকাংশ মানুষই মদ পান করেন এবং আমি দেখেছি যখন লোকেরা খুব বেশি মদ পান করে তখন কি ঘটেছে। আমার একমাত্র চ্যালেঞ্জ ছিল আমার পরিবারকে জানানো।’

কায়রো সিন অবলম্বনে

খবরটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এরকম আরও খবর
© All rights reserved © 2025

কারিগরি সহযোগিতায় Pigeon Soft