
এ সপ্তাহে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব তাহমিনা জানজুয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে।
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, বুধবার কাবুল সম্মেলনে যোগ দেবেন গোখলে। এতে অংশ নেবে আরো ২৫টি দেশের প্রতিনিধিরা।
তবে দুই দেশের কারো পক্ষ থেকেই এখনো দুই পররাষ্ট্র সচিবের আলাদা
বৈঠকের কথা নিশ্চিত করা হয়নি। যদি তাদের দুইজনের সাক্ষাৎ হয়, তবে এটা হবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংককে দুই দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠকের পর প্রথম কোনো বৈঠক।
সম্প্রতি কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাক্যাম্পে কয়েক দফা হামলার ঘটনা নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বৈঠকটি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এসব হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে ভারত।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হামলাগুলোতে ভারতের পাঁচ সেনা ও এক বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। পাকিস্তানকে এর খেসারত দিতে হবে বলেও এর আগে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মল সীতারাম। পাকিস্তানের সহায়তায় জইশ-ই-মুহাম্মদ হামলাগুলো চালিয়েছে বলেও জানান তিনি।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নচেষ্টার অংশ হিসেবে আগামী ১৯ থেকে ২০ মার্চ নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিওটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী পারভেজ মালিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
একে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। অনুষ্ঠানে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পারভেজ মালিকও।
পাক-ভারত পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে
ইসলামাবাদ: পাক-ভারত যুদ্ধের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাসের খান জানজুয়া।
তার মতে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন পরমাণু যুদ্ধ পর্যন্ত গড়াতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের উপর দাঁড়িয়ে। ফলে পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শুধু ভারতকেই নিশানা করা নয়, পাক ও চীনকে ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের নীতিরও সমালোচনা করেছেন তিনি।
দাবি করেছেন, চীনকে ঠেকাতেই দিল্লির সঙ্গে জোট গড়ে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। পাকিস্তানকে ছাপিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঝুঁকেছেন ভারতের দিকে।
সোমবার ইসলামাবাদের একটি আলোচনা সভায় জানজুয়ার এই বক্তব্যের পরেই মার্কিন প্রশাসন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের ঢিলেমি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অভিযোগ এনেছিলেন, আফগানিস্তানে এখন শক্তিশালী হচ্ছে তালেবান। আর আমেরিকা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে দোষ চাপাচ্ছে ইসলামাবাদের উপর।
তবে এবার ট্রাম্প আমেরিকার যে নতুন ‘জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল’ ঘোষণা করেছেন, তাতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে রাজি। তবে ইসলামাবাদকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এর জন্য তাদের জমিতে ঘাঁটি গেড়ে বসা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে। ৯/১১-এর হামলার পর থেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে ৩৩ বিলিয়ন ডলার মার্কিন সাহায্য পেয়েছে পাকিস্তান।
তবে এবার আমেরিকার হুঁশিয়ারি, ওয়াশিংটনকে নিশানা করছে যে জঙ্গিরা, তাদের মদদ দেওয়া হলে কোনও সমঝোতাই সম্ভব নয়।
জানজুয়া চীনকে তাদের বন্ধু হিসেবে তুলে ধরে মার্কিন নীতির তুমুল সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মীরের উপর দিয়ে চীনের ‘মহাসড়ক’ প্রকল্পের গুরুত্বকে মেনে নিতে পারছে না আমেরিকা। বরং তারা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এজন্যই আফগানিস্তানে পাকিস্তানকে ছাপিয়ে ভারতকে গুরুত্ব দিতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। কাশ্মীর নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের থেকে ভারতের কাছাকাছি রয়েছে।