ইন্টারপোলে যাচ্ছেন বাংলাদেশের দুই পুলিশ

 

বাংলাদেশের দুই পুলিশ কর্মকর্তা বিভিন্ন রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জঙ্গিবাদ দমনের প্রশিক্ষণ দিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে যাচ্চেন।

বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এই দু্ই পুলিশ কর্মকর্তা বিভিন্ন রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জঙ্গিবাদ দমনের প্রশিক্ষণ দেবেন।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ইন্টারপোলের এক সভায় আমাদের জঙ্গিবাদ দমনের প্রক্রিয়া প্রশংসিত হয়েছে। ইন্টারপোলের সেক্রেটারি আমার কাছে জঙ্গিবাদ দমনে দুজন কর্মকর্তা চেয়েছেন, যারা অন্যান্য রাষ্ট্রে জঙ্গিবাদ দমনের প্রশিক্ষণ দেবেন। ইতোমধ্যে দুজনের নাম আমরা অনুমোদন করেছি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এর আগে খণ্ডকালীন প্রশিক্ষণে গেলেও জঙ্গিবাদ দমনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে ইন্টারপোলে বাংলাদেশ পুলিশের স্থায়ী নিয়োগের বিষয়টি এবারই প্রথম ঘটতে যাচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করতে চাননি তারা।

নব্বই এর দশক থেকে বিভিন্ন সময়ে তৎপরতা দেখা গেলেও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উপস্থিতির বিষয়টি বড় আলোচনা হয়ে আসে ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায়।

ওই হামলায় ৫ জঙ্গি সহ দেশি-বিদেশি ২২ জন নাগরিকের মৃত্যুর পর দেশব্যাপী একের পর এক অভিযান পরিচালনা করতে থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যাতে মারা পড়েন অনেক জঙ্গি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৭ সালে মোট ৩৫টি অভিযান হয়েছে। এতে ৫৭ জন নিহত হয়েছে, যারা প্রত্যেকেই ‘সুইসাইড স্কোয়াড’র সদস্য। গ্রেপ্তারের সংখ্যা শতাধিক।

শহীদুল বলেন, অতীতের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো। জঙ্গিবাদের যে উত্থান হয়েছিল, তার পুরো নেটওয়ার্ক নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিবাদ ও মাদক দমনের ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতার অভাবের কথাও বলেন তিনি।

শহীদল যোগ করেন, আমরা জঙ্গি ও মাদক নির্মূল করতে পারিনি। মাদক একটি বড় সমস্যা। মাদকের মধ্যে বড় সমস্যা হচ্ছে ইয়াবা। এসব নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শুধু পুলিশ বা আইন দিয়ে কিছু হবে না। এগুলোর জন্য সামাজিক, পারিবারিক জনমত গড়ে তুলতে হবে।

চলতি বছর চালু হওয়া জরুরি সেবা ৯৯৯ সার্ভিসও কার্যকর ছিল জানিয়ে শহীদুল বলেন, এই পর্যন্ত সাড়ে ৪ লাখ কল এসেছে। এরমধ্যে ১২ হাজারটি কলের সার্ভিস দেওয়া হয়েছে। বাকি কল এসেছে তথ্য চেয়ে।