
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশে সফররত ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
সোমবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে।
প্রধানমন্ত্রীর দৈনিক কর্মসূচি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
রবিবার বিকাল ৪টায় জেট এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে পাঁচ দিনের ব্যক্তিগত সফরে বাংলাদেশে আসেন ভারতের সদ্য সাবেক এ রাষ্ট্রপতি। তার সফরসঙ্গী হয়েছেন মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি।
আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতেই তার এই সফর বলে জানা গেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিও দেবে।
সোমবার ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে প্রণব মুখার্জির সফরের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতিকে মধ্যাহ্নভোজেও আপ্যায়িত করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকালে প্রণব মুখার্জি বাংলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলনে অংশ নেবেন।
পরদিন মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানেই তাকে দেয়া হবে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে রাউজানে পারিবারিক বসতভিটা দেখতে যাবেন তিনি। রাতে চট্টগ্রামেই থাকবেন প্রণব।
বুধবার ঢাকায় ফিরে বঙ্গভবনে যাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি।
রবিবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এটা ঠিকই যে গত চল্লিশ বছরে শাসক দল হোক বা বিরোধী শিবির— বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রচনায় প্রণববাবুর প্রভাব থেকেছে সব চেয়ে বেশি। বর্তমান সফরটিতে তার প্রত্যক্ষ কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই ঠিকই। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশে আসছেন তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে হাসিনার সঙ্গে ‘ট্র্যাক টু’ আলোচনা করতেই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভোটের মুখে দাঁড়ানো বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কটিও এখন যথেষ্ট স্পর্শকতার জায়গায় দাঁড়িয়ে। তিস্তা চুক্তি এখনও বিশ বাঁও জলে। আওয়ামী লীগ সূত্রের খবর, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থানে হতাশ হাসিনা। প্রণববাবু রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিবিরে গেলে কিছুটা হলেও সুযোগ ছিল সেই ক্ষত মেরামতির। কিন্তু কূটনৈতিক সূত্রের খবর, মোদী সরকার সেই ঝুঁকি নিতে নারাজ।
প্রসঙ্গত, ভারতীয় এই বাঙালি রাষ্ট্রপতি ও কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখার্জি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের মাঝে দীর্ঘ দিনের উষ্ন সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সমর্থনে ভারতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে খবরে প্রকাশ।
রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালে প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন এবং তার শ্বশুরবাড়িও যান।। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ভারত সফরে গিয়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভবনে অবস্থান করেছিলেন।
ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জী ১৯৪৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নড়াইল সদর উপজেলার চিত্রাপাড়ের ভদ্রবিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মা মীরা রানী ঘোষ আর বাবা অমরেন্দ্র ঘোষের আদরের মেয়ে ছিলেন প্রণব পত্নী শুভ্রা ঘোষ।
প্রণব মুখার্জীর সাথে প্রণয়ের পর ‘শুভ্রা মুখার্জী’ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি (শুভ্রা)। শুভ্রা মুখার্জী পেশায় ছিলেন অধ্যাপক। গত বছরের ১৮ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লির একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার শেষকৃত্যে যোগ দিতে নয়াদিল্লি যান শেখ হাসিনা।
শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পরে ভারতে আত্মগোপন করে ছিলেন শেখ হাসিনা। তখন দীর্ঘদিন প্রণববাবুর বাড়িতেই ছিলেন তিনি। শুভ্রাদেবীর সঙ্গে তখনই হাসিনার বড় বোন-ছোট বোনের সম্পর্ক তৈরি হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর তার কন্যা শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটান। এসময় তার ছেলেমেয়েরা খালার মতোই দেখতেন শুভ্রাদেবীকে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন।