
আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল-IFRC-এর টিম লিডার ডা. নুরা হিংসকে (Nuran Hinggs) কে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (জাতিসংঘ-১) শোয়েব আবদুল্লাহ এই নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রেড ক্রিসেন্টের বাংলাদেশ অফিস সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, আজকের মধ্যেই তাকে বাংলাদেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন এবং অসহযোগিতা করার অভিযোগে কুতুপালং সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে আজকের মধ্যেই তাকে বাংলাদেশ ত্যাগের নির্দেশনা প্রদান করেছে রেড ক্রিসেন্ট।
শনিবার উখিয়ায় টিভি রিলে কেন্দ্রের পাশে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে রোহিঙ্গা ট্রানজিট ক্যাম্পে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির দুই নির্বাহী কর্মকর্তা ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাই লাও মার্মা আহত রোগীদের খোঁজখবর নিতে গেলে হাসপাতালের রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের টিম লিডার নোরা হিংস বাধা দেন।
এমনকি এ সময় উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান ও পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সরওয়ার কামালের সাথে দুর্ব্যবহার করে একপর্যায়ে এই হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান জানান, বিষয়টি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আলী হোসেনকে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়।
দুই নির্বাহী কর্মকর্তাকে নাজেহাল ও অসহযোগিতা করার বিষয়টি গতকাল রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রেড ক্রিসেন্টের বাংলাদেশ অফিসে জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অভিযোগ পেয়ে গতকালই ওই কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়ে আজ (সোমবার) মধ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে রোহিঙ্গা ট্রানজিট ক্যাম্পে শনিবার অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ছয়জন দগ্ধ হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মা ও শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফরিদ আহমদ।
এব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উখিয়া সার্কেল চাইলাউ মারমা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- নুরুন খাবা (৩০), ইমাম শরীফ (৮), আরজুমান বিবি (১), দিলশান বিবি (৬)।
ফায়ার সার্ভিস সুত্রে জানা যায়, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের তাবুতে মোমবাতির আগুন থেকে আগুনের সুত্রপাত হলে মুহুর্তের মধ্যে তাবুটি পুড়ে যায়। ওই সময় তাদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী রেড ক্রিসেন্ট ও এমএসএফ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে সেখানে তারা মারা যায়। সূত্র-আরটিএনএন