
রংপুরে শীতে বিভিন্ন স্থানে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ আরও চার নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ মাসে আগুনে পুড়ে ১৪ জনের মৃত্যু হল।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিন নারী এবং রবিবার রাত ১০টার দিকে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়।
রংপুর বার্ন ইউনিটের সহকারী পরিচালক নূরে আলম জানান, তীব্র শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিন নারী এবং রোববার রাত ১০টার দিকে আরেক নারীর মৃত্যু হয়। তবে তাৎক্ষণিক তাদের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।
এই মাসের শুরুতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আরও সাতজন, শনিবার রাতে দুজন এবং রোববার সকালে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়।
তারা হলেন- ঠাকুরগাঁও শহরের থানাপাড়ার আঁখি আক্তার (৪৫), রংপুর নগরীর নজিবেরহাট এলাকার বেলাল হোসেনের স্ত্রী আফরোজা খাতুন, রংপুরের জুম্মাপাড়া পাকারমাথার রুমা খাতুন (৬৫), কাউনিয়া উপজেলার গোলাপী বেগম (৩০), লালমনিরহাট সদরের শাম্মী আখতার (২৭), পাটগ্রাম উপজেলার ফাতেমা বেগম (৩২), আলো বেগম (২২), নীলফামারী সদরের রেহেনা বেগম (২৫), রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মাহিগঞ্জের চাঁন মিয়ার স্ত্রী মনি বেগম (২৫) এবং নীলফামারী সদরের সোনারমের আমজাদ হোসেনের স্ত্রী মারুফা খাতুন (৩০)।
শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ নারী ও শিশুসহ তিন জনের মৃত্যু
শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নারী ও শিশুসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার ঢামেকে তাদের মৃত্যু হয়। তারা হলেন গোপালগঞ্জের লোকজান বেগম (৬০) ও চাঁদপুরের খাদিজা বেগম (৩০)। এছাড়া আশুলিয়ার শিশু সাবিনা (৮)। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে বিনা ময়নাতদন্তে মৃতদেহ হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রবিউল ইসলাম জানান, মৃতের স্বজনদের আবেদন ও ঘটনাস্থলের সংশ্লিষ্ট থানার অনুমতি সাপেক্ষে মৃতদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
খাদিজা বেগমের (৩০) স্বামীর নাম শাহাদাত হোসেন। তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে আছে। গত ৪ জানুয়ারি বিকালে হাজীগঞ্জ উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে নিজের বাড়িতে গ্যাসের চুলায় আগুন পোহাতে গিয়ে কাপড়ে আগুন লেগে দগ্ধ হন খাদিজা। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরদিন ৫ জানুয়ারি নিয়ে আসা হয় ঢামেক হাসপাতালে। সেখানে রবিবার দুপুরে মারা যান তিনি।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলায় নিজের বাসায় চুলায় আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হন লোকজান বেগম। গত ৯ জানুয়ারি রাজু নামে এক স্বজন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। রবিবার দুপুর ১১টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে বগুড়া সোনাতলা উপজেলার রানীপাড়া ফেরিঘাট এলাকার রহিদুল ইসলামের মেয়ে সাবিনা পরিবারের সঙ্গে থাকতো আশুলিয়ায়। সেখানকার বাডবাগান এলাকায় গত ৫ জানুয়ারি সকালে বাসার সামনে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয় শিশুটি। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।