
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের সাবদিন গ্রামে ভাতিজার কুড়ালের আঘাতে চাচী ধলি বেগম (৪৫) নিহত হয়। আহত হয় ঘাতক মুক্তার মিয়া @শুটকু র আপন বোন সহ ৩ জন। এ ঘটনায় ঘাতক মুক্তার মিয়া @ শুকটু কে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ ১৬ জানুয়ারি সকালে নিজবাড়ীতে মুক্তার মিয়া @ শুকটু (১৮) পরিবারের সদস্যদের এলোপাথারি মারডাং করে। এসময় শুকটুকে থামানোর জন্য তার আপন চাচী ধলি বেগম(৪৫)এগিয়ে এলে ঘাতক শুকটু ‘র হাতে থাকা কুড়াল দিয়ে চাচী ধলি বেগমের মাথায় চোট মারে এসময় ঘটনাস্থলে নিহত হন ধলি বেগম। এসময় ঘাতক শুটকুর হাতে আরো তিনজন আহত হয়। স্থানীয়দের খবরে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধলি বেগমের মৃতদেহ উদ্ধার ও ঘাতক মুক্তার মিয়া @ শুটকুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহত ধলি বেগমের স্বামী নজির হোসেন জানান,আমার স্ত্রী ধলি বেগম আমার আপন ভাতিজা শুকটু কে খুব আদর স্নেহ করতো। আজ বাড়ীতে পরিবারের সকলকে মারধর করার সময় আমার স্ত্রী এগিয়ে গেলে আমার ভাতিজা শুকটু হাতে থাকা কুড়াল দ্বারা চোট মারলে আমার স্ত্রী ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এসময় আরো ৩ জন আহত হয়।
হত্যাকান্ডের বিচার চান কিনা এসময় সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে, নজির হোসেন বলেন আমার ভাতিজা শুকটু মানুসিকভাবে অসুস্থ্য তাই তার কি বিচার চাইবো। আমি আমার স্ত্রীর মৃতদেহ ফিরে চাই। আমি কোন মামলা মোকাদ্দমায় যাবো না।
নিহত ধলি বেগমের বড় ছেলে জলিল সরকার জানায়, ঘাতক আমার আপন চাচাতো ভাই তাকে আমার মা কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে। গত কয়েক মাস আগ হতে ঘাতক মুক্তার মিয়া@শুকটু মানুসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। আজ সে পরিবারের সদস্যদের মারধর করতে থাকলে আমার মা এগিয়ে গেলে শুকটুর হাতে থাকা কুড়াল দিয়ে চোট মারলে আমার মা ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এঘটনায় আমরা কোন প্রকার মামলা মোকাদ্দমায় যাবো না। আমরা আপোষ মিমাংসা করবো।
এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল আলম জানান, পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার ও ঘাতক মুক্তার মিয়া @ শুকটুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ঘাতক শুকটু ভারসাম্যহীন মানুসিক রোগী। ঘাতক মুক্তার মিয়া @ শুকটুর সাথে কথা বলে সে রকমি মনে হয়েছে। তিনি আরো জানান, নিহতের পরিবার কোন প্রকার মামলা মোকাদ্দমায় যেতে চাচ্ছে না। এমতবস্থায় উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে থানা পুলিশের পক্ষ্য হতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ঘাতক মুক্তার মিয়া @ শুকটু সাবদিন গ্রামের তোতা মিয়া সরকারে ছেলে।