
রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ায় শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে পশ্চিম নাখালপাড়ার রুবি ভিলা নামের একটি ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে অভিযান চালায় র্যাব। এরপর একটানা প্রায় ৪০ মিনিট গোলাগুলি হয়। পরে শুক্রবার সকালে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ওই জঙ্গি আস্তানায় তিনজন নিহত হয়েছে।
নিহতের এই ঘটনাকে র্যাবের ডিজি বেনজির আহমেদ সকালে বলেছিলেন, ভেতরে তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। সম্ভবত তারা আত্মঘাতী হয়েছে। তারাই গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
এদিকে আজ শনিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ এম সেলিম রেজা বলেন, জঙ্গি আস্তানায় নিহত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে গুলিতে।
ময়নাতদন্ত শেষে সেলিম রেজা বলেন, তেজগাঁও থানা থেকে তিনটি লাশ পাঠানোর পর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তিনজনের শরীরে বুলেটের চিহ্ন রয়েছে। গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে তাদের।
এ ছাড়া তাদের শরীরে বুলেটের একাধিক আঘাতের চিহ্নও ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদনে যে আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, আমরা সেই আঘাতগুলো পেয়েছি। একজনের শরীরে একটি বুলেট পাওয়া গেছে। তাদের প্রত্যেকের শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের সামনে ও পেছনের দিকে এসব আঘাত রয়েছে।
এ ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হচ্ছে বলে জানান র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরানুল হাসান। তিনি বলেন, সন্ত্রাস দমন আইনে র্যাবের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে মামলাটি করা হবে। তিনজনের পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ইমরানুল হাসান বলেন, পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে র্যাবের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ায় এই ঘটনায় র্যাব জানিয়েছিলেন, জঙ্গিরা জাহিদ নামের একজনের ন্যাশনাল আইডি কাড ব্যবহার করে বাসাটি ভাড়া নেয়। তবে ভেতরে আরো একটি ন্যাশনাল আইডি কাড পাওয়া গেছে। দুটি কার্ডেরই ছবি একটি, নাম দুটি। মনে হচ্ছে, তারা ভুয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে বাসাটি ভাড়া নিয়েছে।
র্যাব আরো বলেন, গত ৪ জানুয়ারি তারা জাহিদ পরিচয় দিয়ে বাসাটা ভাড়া নেয়। নিহতরা সবাই ২০ থেকে ৩০ বছরের যুবক। ভেতরে একটি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জঙ্গিরা। আরো একটি গ্রেনেড ভেতরে রয়েছে। তাদের রুমে পিস্তলসহ আরো কিছু আর্মস রয়েছে।
ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১০০ মিটারের কিছুটা বেশি দূরত্বে এবং সাংসদ সদস্যদের সরকারি বাসভবন বা ন্যাম ভবনের কাছাকাছি অবস্থিত।