
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ৩৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, দুর্ঘটনা কবলিত সেজং নামের হাসপাতালটি দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মিরাং অঞ্চলে অবস্থিত। এটি রাজধানী সিউল থেকে ২৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতাল ভবনের ভেতরে দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত হওয়া ৪০ জনের জনের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রধান চোই ম্যান-য়ু স্থানীয় বার্তা সংস্থা ইউনহাপ নিউজ এজেন্সিকে বলেন, নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তাদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হলেও এখনো তার কারণ জানা যায়নি।
দুর্ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা যায়, প্রচণ্ড ধোঁয়ার কুণ্ডলি উড়ছে। তার মধ্যেই কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছেন।
গত বছর জেচেন শহরের একটি সরকারি শরীর চর্চাকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৯ জন নিহত হয়েছিলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাদকদল পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া
উত্তর কোরিয়া শীতকালীন অলিম্পিক গেমস উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়া আয়োজিত কনসার্টের জন্য সিউলে শনিবার একটি অগ্রবর্তী বাদকদল পাঠাবে। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একথা জানায়। খবর সিনহুয়ার।
খবরে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার সাত সদস্য বিশিষ্ট এ বাদকদল দক্ষিণ কোরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত রুট হয়ে তারা সিউলে যাবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কাউন্টি পিয়ংচংয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় ২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস চলাকালে সিউলে কনসার্টের জন্য ১৪০ সদস্য বিশিষ্ট একটি বাদকদল পাঠানোর ব্যাপারে উত্তর কোরিয়া সোমবার সম্মত হয়।
অস্ত্রবিরতি পালন করা পামুনজম গ্রামে সরাসরি সংলাপের আন্তঃকোরীয় হটলাইন পুনরায় চালু করে উত্তর কোরিয়া বার্তা পাঠিয়েছে।
সিউলের এ মন্ত্রণারয় জানায়, নিজস্ব পর্যবেক্ষণের পর দক্ষিণ কোরিয়া এর জবাব দেবে।
একই পতাকাতলে সমবেত হচ্ছে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া
দুই চিরশত্রুভাবাপন্ন দেশ উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া আসন্ন শীতকালীন অলিম্পিকে একক পতাকা নিয়ে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় এই অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়া অংশগ্রহণ করবে কিনা- বুধবার দুই দেশের মধ্যে সে সংক্রান্ত আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী পানমুনজম গ্রামে অনুষ্ঠিত আলোচনায় দুই দেশ মহিলাদের আইস হকি প্রতিযোগিতায় একক টিম নামানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুই কোরিয়ার ‘একক পতাকা’ হচ্ছে একটি অনানুষ্ঠানিক পতাকা যা দুই দেশের মধ্যে কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সময় তাদের সমর্থকরা প্রদর্শন করে থাকেন।
১৯৯১ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় দুই কোরিয়া মিলে একটি একক টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলে প্রথমবারের মতো গ্যালারিতে এই পতাকা প্রদর্শিত হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং শহরে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি শীতকালীন অলিম্পিক শুরু হবে এবং তা চলবে ২৫
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সংঘর্ষের ইতিহাস
১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে এ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষের ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেয়া হলো:
২১ জানুয়ারি, ১৯৬৮ : উত্তর কোরিয়ার কমান্ডো বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক চুং জীকে হত্যার উদ্দেশ্যে সিউলের প্রেসিডেন্টের ব্লু হাউসে অভিযান চালায়। তবে প্রেসিডেন্ট ভবনের ৮শ’ মিটার দূরে থাকতেই তাদের গতিরোধ করা হয়। এতে ৩২ জন কমান্ডোর সকলেই নিহত বা আটক হয়।
১৫ আগস্ট, ১৯৭৪ : উত্তর কোরীয় গুপ্তচররা প্রেসিডেন্ট পার্কের ওপর গুলি চালায়। এ সময় পার্ক বক্তৃতা করছিলেন। এ ঘটনায় পার্ক বেঁচে গেলেও তার স্ত্রী নিহত হন। এরপরও পার্ক তার বক্তৃতা অব্যাহত রাখেন।
৯ অক্টোবর, ১৯৮৩ : উত্তর কোরিয়ার কয়েকজন গুপ্তচর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট চুন হু-ওয়ানের পৌঁছার প্রাক্কালে মায়ানমারের জাতির পিতা অং সানের একটি স্মৃতিসৌধ উড়িয়ে দেয়। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার ৪ মন্ত্রী ও অপর ১৬ জন নিহত হয়।
২৯ নভেম্বর, ১৯৮৭ : দক্ষিণ কোরিয়া এয়ারলাইনসের একটি বিমানে উত্তর কোরিয়ার এজেন্টদের পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরিত হলে ১১৫ জন আরোহীর সকলেই নিহত হয়।
সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ : উত্তর কোরিয়ার একটি সাবমেরিন থেকে কমান্ডোরা দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলে অবতরণ করে। এ সময় ২৪ অনুপ্রবেশকারী নিহত, একজন আটক ও একজন পালিয়ে যায়।
১৫ জুন, ১৯৯৯ : পীত সাগরে সীমান্ত বরাবর সংঘর্ষ হয়। কোরীয় যুদ্ধের পর এটাই প্রথম নৌ সংঘর্ষের ঘটনা। এ সময় উত্তর কোরিয়ার একটি নৌকা ডুবে যায়। নৌকায় ২০ নাবিক ছিলো।
২৯ জুন, ২০০২ : পীত সাগরে অপর এক সংঘর্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজ ডুবে যায় এবং ৬ নাবিক নিহত হয়। সিউলের যৌথ উদ্যোগে বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উত্তর কোরিয়ার ১৩ নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে।
১০ নভেম্বর, ২০০২ : পীত সাগরের নৌ-সীমান্ত এলাকার কাছে উভয় দেশের বাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। সিউলের কর্মকর্তারা জানান, এতে উত্তর কোরিয়ার একটি টহল নৌকায় আগুন ধরে যায়। তবে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার কেউ আহত হয়নি।
২৭ জানুয়ারি, ২০১০ : উত্তর কোরিয়ার গোলন্দাজ বাহিনী সীমান্ত এলাকায় গোলা বর্ষণ করে। দক্ষিণ কোরিয়ার নৌসেনারা পাল্টা গুলি চালিয়ে এর জবাব দেয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।