
দিন ও রাতের তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আসলেও খুব তাড়াতাড়ি কমছে না শীত। আবহাওয়া অফিস বলছে, জানুয়ারি জুড়েই শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যেই আগামী সপ্তাহে একটি শৈত্যপ্রবাহ দেখা মিলতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ জানুয়ারি বুধবারের পর থেকে স্বাভাবিক হতে পারে দেশের তাপমাত্রা। তবে আগামী ২০ জানুয়ারির পর আবারো শৈত্যপ্রবাহ শুরু হবে।
আবহাওয়াবিদ বজলুল রশিদ বলেন, জানুয়ারি বাংলা মাঘ মাস। এটি সর্বোচ্চ শীতের মাস। ফলে গোটা জানুয়ারিতেই তীব্র শীত থাকবে। তীব্র কুয়াশা আরো বেশ কিছুদিন অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, আগের চেয়ে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়েছে। কিন্তু, ঘন কুয়াশায় সূর্যের তাপ ভূ-ভাগে না পৌঁছানোয় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় প্রায় অপরিবর্তন রয়ে যাচ্ছে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাচ্ছে। বাতাস এই পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাচ্ছে। সেজন্যই মানুষ বেশি শীত অনুভব করছেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি দেশের আরো কিছু এলাকা থেকে প্রশমিত হতে পারে।
এছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা কোথাও কোথাও দিনের বেলা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জানুয়ারি মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তীব্র (৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের শৈত্যপ্রবাহ এবং অন্যত্র ১-২টি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে সার্বিকভাবে এ মাসের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে।
৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড তেতুলিয়ায়
(০৮ জানুয়ারি,২০১৮) আবহাওয়া অফিস বলছে দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড করেছে দেশের সবচেয়ে উত্তরে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়াতে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেছেন, তেতুলিয়াতে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছেন তারা।
এর আগে সবচেয়ে কম তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিলো ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে আর সেটি ছিলো ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খবর বিবিসির।
মান্নান বলছেন বাংলাদেশে তাপমাত্রার যে রেকর্ড সংরক্ষিত আছে তাতে শ্রীমঙ্গলের ২ দশমিক ৮ ডিগ্রিই ছিলো সবচেয়ে কম।
তিনি জানান দেশের দুটি স্থানে সোমবার তাপমাত্রা তিন ডিগ্রির নীচে নেমে এসেছিলো।
তেতুলিয়া ছাড়া অপরটি হলো সৈয়দপুরে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি। এছাড়া নীলফামারীর ডিমলা ও রাজারহাটে ৩ দশমিক ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
মান্নানের মতে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা শীতল বাতাসের কারণে দেশজুড়ে বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত অঞ্চল জুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এছাড়া মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে দেশের মধ্যাঞ্চলে অর্থাৎ ঢাকা, টাঙ্গাইল ও সিলেট অঞ্চলে।
আর মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে খুলনার দক্ষিণ পশ্চিম থেকে শুরু করে বরিশাল, পটুয়াখালী, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গামাটি এলাকায়।
মান্নান বলেন চট্টগ্রাম অঞ্চল বাদ দিয়ে পুরো দেশই আসলে শৈত্যপ্রবাহের কবলে রয়েছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হতে আরও দু একদিন সময় লাগবে।
কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি আর ঢাকায় রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি। তবে পরিস্থিতি উন্নতি হলেও উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির কাছাকাছিই থাকবে বেশ কয়েকদিন, বলছেন মান্নান।
আর তাপমাত্রা যাই হোক না কেন জানুয়ারি মাসে পুরো দেশ জুড়েই শীতের প্রবাহ অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা তাদের।