
জাতীয় সংসদের আসন্ন উপ-নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী দেড়-ডজন প্রার্থী হলেও জাপা (এ) আসনটি পূণঃ উদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
আগামী জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশিরা হলেন- উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি টিআইএম মকবুল হোসেন প্রামানিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মনজু, জেলা আ.লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম, পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি উপাধ্যক্ষ হান্নান সরকার, জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি ও ওসমানী স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সৈয়দ মাসুদা খাজা, জেলা মহিলা আ.লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি, প্রয়াত এমপি লিটনের বড় বোন আফরোজা বারী, দহবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম কবির মুকুল।
আরও রয়েছেন- যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আলম রেজা, প্রয়াত এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদের ছেলে মাসুম মিয়া, গাইবান্ধা জেলা পরিষদ সদস্য এমদাদুল হক নাদিম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজা বেগম কাকলি, সোনারায় ইউপি চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা বদিরুল আহসান সেলিম।
জাপা (এ) মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- জাপা চেয়ারম্যান হুসাইন মোঃ এরশাদের আইন ও বিচার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জাতীয় পার্টির পৌর সভাপতি আব্দুর রশিদ সরকার ডাবলু। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু।
এদিকে উপ-নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা হতে না হতেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে গোটা উপজেলা আনাচে-কানাছে ছেয়ে গেছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে তাফসীর মাহফিলগুলোসহ বিয়ের আসরে যোগ দিয়ে নিজেদের পরিচয় ও যোগ্যতা তুলে ধরছেন। তারা তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পক্ষে নেয়ার জন্য গ্রুপিং লোবিং শুরু করাসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।
এছাড়া চায়ের দোকান, হোটেল-রেস্তেরাগুলোতে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে কে হবে আ’লীগের নৌকার কান্ডারি। এদিকে ৭৫ পরবর্তী সময়ে আ’লীগের এস আসনটি হাত ছাড়া হলে জাতীয় পার্টি ও জামায়াত এ আসনটি তাদের দখলে রাখলেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী জাতীয় নির্বাচনে আ.লীগ প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন এ আসনটিতে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিজ বাড়িতে নিহত হলে ২০১৭ সালের ২২ মার্চ উপ-নির্বাচনে উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহমেদ, আসনটি ধরে রাখেন। তিনি ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ ডিসেম্বর মারা গেলে আবারও আসনটি শূণ্য হয়।
শূণ্য আসনটিতে উপ-নির্বাচনে আ.লীগের প্রায় দেড় ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় জাপা (এ) আসনটি পূণঃ উদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবে জামায়াতে শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটিতে যদি জামায়াত বা বিএনপি কোন প্রার্থী না দেয় তাহলে তাদের যে ভোট ব্যাংক রয়েছে তা যে দিকে মোড় নিবে সেদিকেই জয়ের পাল্লা ভারী হবে বলে সাধারণ ভোটারেরা মনে করছেন।
এক্ষেত্রে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে জাপা এ সুযোগটি হাত ছাড়া নাও করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।