
‘গ্রেপ্তারের সাথে ক্রসফায়ার এবং গুমের ঘটনা বেড়ে চলেছে। এই বৎসর নির্বাচনের বৎসর। সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের জন্য যখন সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ সমান্তরাল মাঠ তৈরি করার প্রয়োজন বেড়ে চলেছে, তখন এই ধরণের ক্রসফায়ার, গুম, খুন, গ্রেফতার মিথ্যা মামলা, দমন, নির্যাতন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সকল সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় তিনি অবিলম্বে সকল মামলা প্রত্যাহার ক্রসফায়ার হত্যা, গুম, খুন গ্রেফতার বন্ধ করার জোর দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল হাই, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।
গত ৫ সপ্তাহ ধরে সরকার নতুন করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপকহারে গ্রেফতার এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন শুরু করেছে উল্লেখ বরে তিনি বলেন, এই অনৈতিক সরকার পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতার, ক্রসফায়ার ও গুমের মধ্য দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। ভোটারবিহীন নির্বাচনে স্বঘোষিত সরকার আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনের পূর্বেই বিরোধীদলকে মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার হীন চক্রান্ত করছে।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। মামলা রেখে নির্বাচন করা যায় না। গ্রামের কর্মীরাও পর্যন্ত মামলার মধ্যে পড়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পূর্ব শর্ত বলে কিছু নেই। নির্বাচন করতে হলে সমান্তরাল মাঠ তৈরি করতে হবে। পার্লামেন্ট ভেঙে (ডিসলভ) দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। এগুলো হচ্ছে আমাদের মূলকথা।’
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বিগত কয়েক দিনে সরকারের মন্ত্রী, জাতীয় পার্টির সদস্য এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এই অবৈধ সরকারের বিশেষ দূত হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন-অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে। তাহলে আমাদের প্রশ্ন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় কি পূর্বেই নির্ধারিত? এই অবৈধ সরকার পূর্বেই রায় লিখে রেখেছেন। তবে এই বিচারের প্রহসনের কোনও প্রয়োজন ছিল না। দেশে যে আইনের শাসন নেই, ন্যায় বিচার সুদূর পরাহত সেটাই প্রমাণিত হলো। বিচার হবে প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন তাই। এখন পর্যন্ত এই বক্তব্যের জন্য যা আদালত অবমাননার সামিল তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান ও তিনবার নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দুইবারের বিরোধী দলের নেতাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য ২৪টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তার মধ্যে দু’টো মিথ্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সপ্তাহে তিন দিন বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতের হাজির হওয়ার নজীরবিহীন নির্যাতন, তারিখে তারিখে জামিন দেয়ার নজীরবিহীন আদেশ সমগ্র বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট হচ্ছে এখন যে, নজীরবিহীন দ্রুততার সাথে মামলা শেষ করার প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, এই সরকার বেগম জিয়াকে ভয় করে বলেই তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। আমরা সরকারের এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যেভাবে পুলিশ-র্যাব দিয়ে আদালত ও আদালত সংলগ্ন এলাকা ঘিরে রাখে তাতে মনে হয় কোন সামরিক শাসনের অধীনে সামরিক আদালতে এই বিচারকার্য চলছে। একজন সর্বাধিক জনপ্রিয় নেতা যিনি বারবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, যিনি দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছেন, যিনি গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ ১২ মাস কারাবরণ করেছেন, তার সঙ্গে এই ধরনের অবমাননাকর, অমানবিক আচরণ শুধুমাত্র সামরিক শাসন এবং ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দেয়‘।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায় পূর্ব নির্ধারিত। এই অবৈধ সরকার আগেই রায় লিখে রেখেছে। বিচার হবে প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন, তাই।’