ফের আত্মঘাতী বোমা হামলায় রক্তাক্ত আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের কেন্দ্রস্থল। কাবুলের একটি পুলিশ চেকপয়েন্টে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১৪০ জন।
শনিবারের আত্মঘাতী এই হামলাটি চালানো হয়েছে কাবুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরনো ভবনের ঠিক পাশেই। জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবান এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
কাবুলের দূতাবাস এলাকা ও সরকারি দপ্তরগুলোর কাছে একটি অ্যাম্বুলেন্সে লুকিয়ে রাখা বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
হামলাস্থলের নিকটবর্তী ট্রমা হাসপাতালের পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ইতালীয় ত্রাণ সংস্থা ইমার্জেন্সির সমন্বয়ক দেইয়ান পানিক বলেন, ‘এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড।’
শুধু তাদের হাসপাতালেই ৫০ জনেরও বেশি আহতকে ভর্তি করা হয়েছে বলে এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াহিদ মাজরো জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে অন্তত ৪০ জন নিহত ও ১৪০ জন আহত হয়েছেন; মধ্যাহ্ন ভোজের সময় শহরের একটি ব্যস্ত এলাকার একটি সড়কে হামলাটি চালানো হয়।
বিস্ফোরণের সময় কাছাকাছি থাকা পার্লামেন্ট সদস্য মিরওয়াইস ইয়াসিনি জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্সটি চেকপয়েন্টটির দিকে এগিয়ে হাই পিস কাউন্সিলের দপ্তর ও বিদেশি কয়েকটি দূতাবাসের কাছে এসে বিস্ফোরণ ঘটায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণ এতোটাই শক্তিশালী ছিল যে, শহরের সব স্থান থেকে আকাশে পেঁচিয়ে উঠতে থাকা ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা যায়।
সংবাদমাধ্যমগুলোকে ভীতিকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে শুরু করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা বলছেন, আত্মঘাতী হামলাটি যখন চালানো হয় তখন রাস্তাটি লোকে লোকারণ্য ছিল। বহু সংখ্যক মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এমন একটি সময় বেছে নিয়েছিল জঙ্গিরা।

তালেবান এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরনো এক কার্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ওই হামলা চালানো হয়। ঠিক এক সপ্তাহ আগে কাবুলের একটি বিলাসবহুল হোটেলে তালেবান জঙ্গিদের হামলায় ২২ জনের মৃত্যু হয়। তাদের বেশিরভাগই ছিল বিদেশি।
এছাড়া ঘটনার কয়েক দিন পরই আফগানিস্তানের জালালাবাদে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের সদর দপ্তরে আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ও বন্দুক হামলা চালানো হয়। ওই হামলাতেও কয়েকজন নিহত হয়।