
চলতি বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের হজের জন্য সৌদি আরব এবং বাংলাদেশের মাঝে হজ চুক্তি স্বাক্ষয় হবে ১৪ জানুয়ারি।
বুধবার দশম জাতীয় সংসদের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৩১তম বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুনের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহন করেন কিমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা, এ কে এম এ আউয়াল, সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, মো: মকবুল হোসেন এবং মোহাম্মদ আমির হোসেন।
সৌদি আরব এবং বাংলাদেশের মাঝে ২০১৮ সালের হজ চুক্তি ১৪ জানুয়ারি স্বাক্ষর হবে মর্মে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে অবহিত করা হয়। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্যদেরকে চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিত, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের হজযাত্রীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। আগামী হজ মৌসুম থেকে এটি কার্যকর হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হজযাত্রীরা পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে জেদ্দা ও মদিনা গমনের জন্য বাংলাদেশের বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের জন্য প্রি-ক্লিয়ারেন্স পাবেন। খবর বাসসের।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিসুর রহমান বলেন, এর ফলে হজযাত্রীদের সৌদি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ লাইন দিয়ে অপেক্ষার ঝামেলা পোহাতে হবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে প্রি-ক্লিয়ারেন্স চালু করার উপায় খুঁজে বের করতে শিগগির সৌদি আরবের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা আসবে।
সচিব আরো বলেন, সৌদি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা ফিরে যাওয়ার আগেই এখানে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।
তিনি বলেন, সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট- এই তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রি-ক্লিয়ারেন্স চালুর অনুরোধ জানাবে।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর সভাপতি শাহাদাত হোসেন তাসলিম সৌদি কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এটি হজ ব্যবস্থাপনাকে সহজ করে তুলবে। আমাদের দেশের হজযাত্রীরা সৌদি বিমানবন্দরে নেমে সোজা লাগেজ এরিয়ায় চলে যেতে পারবেন।
তিনি জানান, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় চলতি বছর হজ মৌসুমে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রি-ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন করেছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০১৮ সালে এক লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রী পাঠাতে পারবে। এ পর্যন্ত দুই লাখের বেশি হজ গমনেচ্ছু ব্যক্তি আগামী বছরের জন্য নাম নিবন্ধন করেছেন।