
আত্মীয়ের মাথায় গুলি করায় ইসরাইলি সেনার গালে প্রকাশ্যে চড় দিয়ে ১৬ দিন পর আজ মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি কিশোরী নুর তামিমি।
১২০০ ইউরোর বিনিময়ে ইসরাইল আজ তাকে মুক্তি দেয়। মুক্তি পেয়ে নুর তামিমি নিজ শহর ও এলাকায় ব্যাপকভাবে সংবর্ধিত হন।
উল্লেখ্য- গত ২০ ডিসেম্বর ইসরাইলের এক সেনাকে চড় মেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলে ফেলেছে ফিলিস্তিনের এই কিশোরী। ১৬ বছরের ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমি তার বাড়ির সামনে ইসরায়েলি এক সেনার গালে সপাটে চড় বসিয়ে দেয়। গ্রেপ্তারের পর সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সে, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের কাছে সে এখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন তার চড় মারার সেই ফুটেজ ভাইরাল হয়ে ঘুরছে। ইসরায়েলের বাম-ঘেঁষা দৈনিক হারেতজ লিখেছে, ইসরাইল যদি আহেদ তামিমির বিচার নিয়ে বাড়াবাড়ি করে, তাহলে এই কিশোরী হয়তো ‘ফিলিস্তিনি জোয়ান আর্ক হয়ে উঠবে।’ অন্যদিকে দক্ষিণপন্থী ইসরাইলিরা সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করে লিখছে, কেন তারা ঐ ফিলিস্তিনি কিশোরীর মুখে পাল্টা চড় মারলো না।
ঘটনাটি ঘটে দু সপ্তাহ আগে অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবি সালেহ নামের একটি গ্রামে। বছরের পর বছর ধরে এই গ্রামের লোকজন প্রতি সপ্তাহে একদিন ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ঐ বিক্ষোভের সময় ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে আহেদ তামিমির ধাক্কাধাক্কি হচ্ছে। এক পর্যায়ে ঐ কিশোরী সপাটে চড় বসিয়ে দেয় এক সেনার গালে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ঐ চড়ে ঐ সেনা সদস্যের ভ্রু কেটে গেছে। আহেদ তামিমির বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচনায় সহিংসতা এবং দায়িত্ব পালনে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সামরিক আদালতে সে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
এই ধরণের দুঃসাহসিক কাজ এই কিশোরী আগেও করেছে। দু’বছর আগে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার সময় সে ইসরাইলি সেনার হাত কামড়ে দিয়েছিলো। তারও আগে ২০১২ সালে ইসরাইলি সেনাদের সাহসের সঙ্গে মোকাবেলার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান তাকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। আহেদ তামিমির বয়স তখন ছিল মাত্র ১১ বছর।