
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামিক স্টেট গ্রুপ বিরোধী যুদ্ধে আরো অনেক কিছু করার রয়েছে বলে সতর্ক করতে যাচ্ছেন। তিনি মঙ্গলবার তার স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে এ বিষয়ে সতর্ক করবেন বলে জানা গেছে। খবর এএফপি’র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ইরাক ও সিরিয়া ভূ-খন্ডের প্রায় শতভাগ এলাকা আইএস মুক্ত করেছে বলে ট্রাম্প ঘোষণা দেবেন। এক সময় দেশ দু’টির বিশাল এলাকা এ জঙ্গি গ্রুপের দখলে ছিল।
এ যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতি অব্যাহত রাখার ব্যাপারে তার প্রশাসনের যুক্তি তুলে ধরে তিনি আরো বলবেন, ‘এক্ষেত্রে আরো অনেক কিছু করার রয়েছে।’
২০১১ সালে ইরাক থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়ার ব্যাপারে তার পূর্বসূরি বারাক ওবামার ভুলের কথা তুলে ধরে এ ব্যাপারে তার নিজের পর্যবেক্ষণ তুলনা করে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলবেন, ‘আইএসআইএস’কে পরাজিত না করা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’ ২০০৩ সাল থেকে ইরাকে মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।
প্রথম ‘স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যামেরিকায় ঐক্যের ডাক দিলেও অভিবাসনসহ অনেক বিভাজনমূলক নীতি থেকে সরে আসতে নারাজ তিনি৷
তর্জনগর্জন কিছুটা কমিয়ে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু ক্ষেত্রে আপোষের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন৷ সুইজারল্যান্ডের ডাভোসের পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম ‘স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণেও সেই মনোভাব দেখা গেল৷ দেশে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে অ্যামেরিকার সব মানুষের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা বললেন ট্রাম্প৷
একদিকে তিনি নিজের সমর্থকদের আশ্বাস দিতে কিছুটা তর্জনগর্জন করলেও অন্যদিকে বাকিদের মন জয় করার চেষ্টাও চালিয়েছেন৷ অভিবাসন, বাণিজ্য, পররাষ্ট্র নীতি থেকে শুরু করে জাতীয় সংগীত নিয়ে কড়া কথা শোনালেও সেইসঙ্গে এমন কিছু বিষয়ের উল্লেখ করলেন, যা বাকি ভোটারদের পছন্দ হতে পারে৷ ‘ড্রিমার্স’ কর্মসূচির আওতায় থাকা বেআইনি তরুণ অভিবাসীদের সাহায্য করতে চান ট্রাম্প৷ অবকাঠামোর উন্নয়ন, কারাগার ব্যবস্থার ঢালাও সংস্কারের মতো বিষয় উল্লেখ করেন তিনি৷
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য বাহবা কুড়াতে কার্পণ্য করেন নি ট্রাম্প৷ কর্মসংস্থান ও বেতন-মজুরির হার বেড়ে চলায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন৷ ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁরই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ফলে অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠছে৷ বলা বাহুল্য, পূর্বসূরি বারাক ওবামার আমলেই অর্থনৈতিক উন্নতির উল্লেখ করেননি তিনি৷
ট্রাম্প মুখে যা বললেন, তা কাজে পরিণত করে দেখাতে পারবেন কি? এর আগেও তাকে দ্রুত মতবদল করতে দেখা গেছে৷ বিশেষ করে লাগামহীন টুইট বার্তায় তিনি প্রায়ই নিজের সাফল্য খর্ব করে থাকেন৷ আগামী কয়েক সপ্তাহে তাকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যার মধ্যে তার প্রকৃত মনোভাবের প্রতিফলন ঘটবে৷ ৯ মাস পর সংসদ নির্বাচনের উপরেও তাঁর সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে বাধ্য৷ রিপাবলিকান দল কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প-এর পক্ষে কোনো আইন অনুমোদন করানো কঠিন হয়ে পড়বে৷ বর্তমানে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও তাঁকে বার বার বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে৷
‘স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণের একটা বড় অংশ জুড়ে অভিবাসন নিয়েই কথা বললেন ট্রাম্প৷ এই প্রশ্নে এখনো নিজের কড়া অবস্থানে অটল রয়েছেন তিনি৷ মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর গড়তে তিনি বদ্ধপরিকর৷ অভিবাসনের নিয়মকানুন আরও কড়া করতে তিনি ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থনের ডাক দিয়েছেন৷ ‘ড্রিমার্স’ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছুটা নরম মনোভাব দেখালেও তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়৷
ট্রাম্প জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের দোহাই দিয়ে তিনি গুয়ান্তানামো কারাগার বন্ধ করার প্রক্রিয়া থামিয়ে দিয়েছেন৷ উল্লেখ্য, বারাক ওবামা শেষ পর্যন্ত এই মর্মে তাঁর প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেননি৷ ট্রাম্প বলেন, গুয়ান্তানামো থেকে ছাড়া পেয়ে সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র সংগ্রামে নেমে পড়ে৷ মার্কিন সৈন্যদের আবার যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের খতম করতে হয়৷
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পালন করতে অ্যামেরিকার অবকাঠামোর ঢালাও উন্নয়ন করতে চান ট্রাম্প৷ এর জন্য দেড় লক্ষ কোটি ডলার বরাদ্দ করতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে৷ তিনি বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশ্যে এক্ষেত্রে সহযোগিতার ডাক দিয়েছেন৷
ড্যানিয়েলস কেলেঙ্কারিতে দূরত্ব বাড়ছে মেলানিয়ার সঙ্গে, নতুন বিতর্কে ট্রাম্প!
গত সপ্তাহ থেকে সবকিছুতেই অদ্ভুত রকমভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিতে স্বামী ডোনাল্ড ট্রাম্প সুইজারল্যান্ডের দাভোসে যাওয়ার পর থেকেই নিজেকে অনেকটা আড়ালে রেখেছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া।
যাইহোক, পর্ন তারকা স্ট্রর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক দশকের পুরনো সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক গুঞ্জনের তুলনায় তার এই অনুপস্থিতি যদিও কিছুটা কম কৌতূহলের।
স্ট্রর্মি ড্যানিয়েলস নামে অভিনয় করা এই পর্ন তারকার আসল নাম স্টেফানি ক্লিফোর্ড। ২০০৬ সালে স্টেফানি ক্লিফোর্ডের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ওই পর্ন তারকা যাতে বিষয়টি নিয়ে মুখ না খোলেন, সেই লক্ষ্যে গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাসখানেক আগে ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেনের মাধ্যমে তাকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এ সম্পর্ক প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর মেলানিয়া হঠাৎ তার দাভোস সফর বাতিল করে দেন। এরপর একাকী ফ্লোরিডার ‘ওয়েস্ট পাম’ বিচের উদ্দেশ্যে বিমান ওঠেন। এর আগে বৃহস্পতিবার অঘোষিত এক সফরে তিনি ওয়াশিংটন ডিসির হোলোকাস্ট মেমোরিয়াল যাদুঘরে যান।
তবে শুক্রবার মেলানিয়া ট্রাম্পের একজন মুখপাত্র এটিকে মিডিয়ার ‘মিথ্যা প্রতিবেদন’ বলে দাবি করেন।
মেলানিয়ার মুখপাত্র স্টেফিনি গ্রেশাম এক টুইটে বলেন, ‘ফার্স্ট লেডি হিসেবে মেলানিয়া তার পরিবার ও তার দায়িত্ব নিয়ে দৃষ্টিপাত করেন। জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকাশিত অবাস্তব ঘটনা নিয়ে তার কোনো আগ্রহ নেই।’
ক্লিফোর্ডের সঙ্গে ট্রাম্পের এই সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে অপ্রকাশিত পেমেন্টের বিষয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে, মেলানিয়া ট্রাম্প তার স্বামীর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন।
ডেইলি মেইল জানিয়েছে এই ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই ফার্স্ট লেডি ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
অনলাইন ম্যাগাজিন স্লেট গ্রুপের প্রধান সম্পাদক জ্যাকব ওয়েইসবার্গ বলেন, ২০১৬ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে সাক্ষাৎকারে ক্লিফোর্ড বলেন, ২০০৬ সালে তার সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচয় এবং সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় ট্রাম্পের আইনজীবী তাকে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকতে বলেন। এ জন্য ট্রাম্পের আইনজীবীর মাধ্যমে তাকে অর্থ দেওয়া হয়।
স্টেফানি ক্লিফোর্ড আরো দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নামি গলফ টুর্নামেন্টে তার সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচয় হয়েছিল। ২০০৬ সালে তার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক সম্পর্ক হয়। সেখানেই ওই কাণ্ড করেন ট্রাম্প।