
পাকিস্তানের ১৮০০ আলেম আত্মঘাতী বোমা হামলাকে হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত কয়েকটি সন্ত্রাসী সংগঠনের তৎপরতায় পাকিস্তান যখন সহিংতার কবলে পড়ে রয়েছে তখন এই ফতোয়া দিলেন দেশটির আলেমরা।
মঙ্গলবার পাক সরকার একটি বইয়ের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেছে এবং ওই বইয়ে এসব আলেম আত্মঘাতী বোমা হামলার বিষয়ে সর্বসম্মত ফতোয়া তুলে ধরেছেন।
তারা বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে পবিত্র যুদ্ধ বা জিহাদ ঘোষণার কোনো এখতিয়ার নেই।’
পাক আলেমরা আরো বলেছেন, এসব আত্মঘাতী হামলা নিষিদ্ধ; ফলে বোমা হামলার মাধ্যমে ইসলামের মূল শিক্ষা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় বইটি বের করেছে। এ বই প্রকাশের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে- পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের লাগাম টেনে ধরা। ২০০০ সালের পর থেকে পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও নানামুখী সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসেইন আশা করেন, সর্বসম্মতভাবে দেয়া এই ফতোয়ার কারণে পাকিস্তানে সৃষ্ট সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও সাম্প্রদায়িকতার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে সহায়তা করবে।
সূত্র: পার্স টুডে
পাকিস্তান গোয়েন্দা তথ্য আর আমেরিকাকে দেবেনা
ইসলামাবাদ এবং ওয়াশিংটনের সম্পর্কে নতুন ফাটল শুরু হয় যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নববর্ষের বার্তায় পাকিস্তানকে ‘মিথ্যা এবং প্রতারণার’ জন্য অভিযুক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয় পাকিস্তানের জন্য সবধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, দুই দেশ আর বন্ধু দেশ নয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান এক ধাপ এগিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার দেশের সাথে বেইমানি করছে। খবর বিবিসির
তবে উপরে এ ধরনের বাক্যালাপ চললেও, তলে তলে দুই পক্ষ অনেক সতর্ক।
যেমন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বলছে, নিরাপত্তা সাহায্য সাময়িকভাবে বন্ধ করা হবে। এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত তহবিল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।
তবে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধের যে ঘোষণা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী করেছেন, তাকে কেউ হালকা করে দেখছে না। কারণ, পাকিস্তান গত বিশ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া অনেক কমিয়ে দিয়েছে ।
সন্দেহ শুরু ৯/১১ এর পর থেকে
১৯৫০ এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ মিত্র। পাকিস্তানের অর্থনীতি এবং নিরাপত্তায় দুহাতে টাকা দিয়েছে আমেরিকা।
পাকিস্তানও প্রতিদান দিয়েছে। ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের গোপন রেডিও বার্তার ওপর নজরদারীর জন্য পেশোয়ারে সিআইএ’কে একটি ঘাঁটি করতে দিয়েছিল পাকিস্তান।
তারপর ১৯৮০র দশকে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েতদের তাড়ানোর যুদ্ধে পাকিস্তান তাদের ভূমি উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। আমেরিকানরা পয়সা জোগালেও মুজাহেদিনদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ঘাঁটি তৈরি- সবই করেছিল পাকিস্তান।
কিন্তু বিরোধের সূচনা হয় ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর আমেরিকায় সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে। আমেরিকা আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং পাকিস্তানকে সেই যুদ্ধের সরবরাহ রুট হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে।
সেসময় রফা হয়, আমেরিকা প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করবে, অন্যদিকে পাকিস্তান করবে মানুষ দিয়ে।
কিন্তু সমস্যা শুরু হলো, আমেরিকা আফগানিস্তানে যে ইসলামি কট্টরপন্থীদের নির্মূল করতে উদ্যোগ নিল, একসময় তাদেরই পাকিস্তান ব্যবহার করেছে আফগানিস্তানে ভারতীয় প্রভাব খাটো করার জন্য।
ফলে আফগান যুদ্ধে ওপরে ওপরে পাকিস্তান আমেরিকানদের সহযোগিতার কথা বললেও, ভেতরে ভেতরে এসব ইসলামি কট্টরপন্থীদের সীমান্তে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নিরাপদে থাকার জায়গা করে দিতে শুরু করে পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা।
ফলে কিছু আল-কায়দা নেতাকে হত্যা বা ধরার জন্য পাকিস্তান আমেরিকাকে সাহায্য করলেও তালিবান বা হাক্কানি নেটওয়ার্কের সিংহভাগ নেতা অক্ষত রয়ে গেছে।
এখনও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তালিবান কমান্ডারদের কোয়েটা, পেশোয়ার, করাচী এমনকী রাজধানী ইসলামাবাদেও চলাফেরা করতে দেখা যায়।
আর এই বাস্তবতায়, পাকিস্তানের সাথে গোয়েন্দা তথ্য লেনদেনে নিজেরাই উৎসাহ হারাচ্ছে আমেরিকা।