
ফিলিস্তিনিদের জন্য অর্থ সহায়তা বন্ধ করার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে ‘সস্তা রাজনৈতিক চাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের মুখপাত্র ফাওজি বারহুম।
বুধবার এক বিবৃতিতে বারহুম ট্রাম্পের নিন্দা জানিয়ে একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের এ হুমকির মধ্যদিয়ে ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকারের প্রশ্নে মার্কিনীদের বর্বর ও অনৈতিক অবস্থান ফুটে উঠেছে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানকে মোকাবেলা করার জন্য ফিলিস্তিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় আরব ও মুসলিম বিশ্ব এবং আন্তর্জাতিক সমাজকে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবারের টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেছেন, ‘শুধু পাকিস্তানই নয়, যাদের আমরা বাহুল্য কারণে কোটি কোটি ডলার দিই, এ রকম আরও অনেক দেশ আছে। যেমন আমরা প্রতিবছর ফিলিস্তিনকে শত মিলিয়ন ডলার দিই এবং কোনো প্রশংসা বা মর্যাদা পাই না। এমনকি তারা অনেক দিন ধরে ঝুলে থাকা বিষয়ে সমঝোতাও করতে চায় না।’
এর আগের দিন পাকিস্তানকে অর্থ সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়ে এক টুইট করেছিলেন ট্রাম্প। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে আমেরিকা বোকার মতো পাকিস্তানকে ৩৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এবং তারা মিথ্যাচার এবং প্রতারণা ছাড়া কিছুই আমাদের দেয়নি। আমাদের নেতাদের তারা বোকা ভেবেছে। তারা সেইসব সন্ত্রাসবাদীকে নিরাপদ আশ্রয় দেয় যাদের বিরুদ্ধে আমরা আফগানিস্তানে লড়াই করছি। আর নয়। পাকিস্তানকে যা অনুদান দেওয়া হয়েছে আপাতত তাতেই ইতি টেনে দিতে পারে আমেরিকা। সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ না করা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান পাওয়ার অভ্যাস ভুলে যাক পাকিস্তান।’
গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বায়তুল মুকাদ্দাসকে (জেরুজালেম) আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান।
ট্রাম্পের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গত ২২ ডিসেম্বর বলেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়ায় আমেরিকা নিজেকে ‘অসৎ মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে প্রমাণ করেছে এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত কোনো পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করব না।’
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার টুইট বার্তায় বলেন, ‘সমঝোতার সবচেয়ে কঠিন বিষয় জেরুজালেমকে আমরা আলোচনার টেবিলের বাইরে এনেছি, তা না হলে ইসরালকে আরো বেশি মূল্য দিতে হতো। কিন্তু শান্তি আলোচনায় ফিলিস্তিনের কোনো আগ্রহ নেই। তাহলে কেন তাদের এই বিপুল পরিমাণের অর্থ দিয়ে যেতে হবে?’
বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার বিষয়ে ট্রাম্পের স্বীকৃতির পর বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে একটি প্রস্তাব পাস করে। এরপর থেকেই মার্কিন সরকার বিভিন্ন দেশকে আর্থিক সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছে।