
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব কারণে বিশ্বব্যাপী কুখ্যাত হয়ে উঠেছেন তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অনর্গল মিথ্যা বলে যাওয়া। ২০১৭ সালে ট্রাম্পের মুখ নিসৃত প্রধান কয়েকটি মিথ্যা কথার তালিকা প্রকাশ করেছে এনবিসি নিউজ।
চ্যানেলটি বলেছে, ২০১৭ সালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে বহু মিথ্যা ও অবিশ্বাস্য কল্পকাহিনী শুনিয়েছেন। তিনি বছর শুরুই করেছেন মিথ্যা কথা দিয়ে। তিনি তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে নিয়ে প্রথম মিথ্যা কথা বলেছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যত মানুষ উপস্থিত ছিল এর আগের কোনো প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে তত মানুষ উপস্থিত হয়নি।
এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প দ্বিতীয় বড় মিথ্যাটি বলেছেন কংগ্রেস প্রতিনিধিদের কাছে। তিনি দাবি করেছেন, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিন্টন লাখ লাখ জাল ভোট পেয়েছেন। অথচ এ ধরনের কোনো প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ পায়নি।
এনবিসি নিউজ আরো জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়ার সমালোচনা করতে গিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বলেন, ‘আমাদের দেশকে নিরাপদ রাখতে হবে এবং আজ রাতে জার্মানি ও সুইডেনে যা ঘটেছে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’ ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরদিন সুইডেনের একটি পত্রিকা খবর দেয়, ওই রাতে দেশটিতে বিশেষ কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
ট্রাম্পের মিথ্যার তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে এনবিসি নিউজ আরো জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ট্রাম্প টাওয়ারে তার টেলিফোনালাপে আড়ি পেতেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিন্তু তার এই দাবি ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এ ধরনের কোনো প্রমাণ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পায়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে তার গোপন সম্পর্কের বিষয়টিকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে উল্লেখ করেছেন অথচ নিরাপত্তা বাহিনীর তদন্তে এই বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
এনবিসি নিউজের মতে, ট্রাম্প দাবি করেছেন, ট্যাক্স সংস্কার পরিকল্পনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু বাস্তবতা এর সম্পূর্ণ উল্টো।
যুক্তরাষ্ট্রে সিনেট কমিটির শুনানিতে এসে এফবিআইয়ের বরখাস্ত হওয়া পরিচালক জেমস কোমি তাকে ও এফবিআইকে নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
এর মাসখানেক আগে কোমিকে বরখাস্ত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
জেমস কোমি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা ও রাশিয়ার মধ্যে কোন যোগসূত্র আছে কি-না তা নিয়ে তদন্তের সময় তাকে বরখাস্ত করার পেছনে যেসব যুক্তি দেয়া হয়েছিলো সেগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি তাকে বরখাস্ত করা ও তার সাথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাক্ষাতের বিষয়ে মিথ্যা বলার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিযুক্ত করেন।
শুনানিতে কোমি বর্ণনা করেন যে কিভাবে তিনি অবাক ও বিরক্ত হয়েছিলেন কারণ তিনি অনুভব করছিলেন যে মিস্টার ট্রাম্প চাপ সৃষ্টি করছিলেন তার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রাশিয়ার মধ্যকার কোন যোগসূত্র আছে কি-না তা নিয়ে তদন্ত বাদ দেয়ার জন্য।
পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন তিনি ওই তদন্ত কখনোই বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করতে বলেননি।
তার আইনজীবী এক বিবৃতিতে বলেছেন জেমস কোমির শুনানিতে প্রমাণিত হয়েছে যে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে তদন্তেরর অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট সেই তদন্তের আওতায় ছিলেন না।
শুনানিতে জেমস কোমি বলেন হোয়াইট হাউজ তাকে এবং এফবিআইকে হেয় করতে চেয়েছে।
‘এগুলো ছিলো মিথ্যা এবং আমি দু:খিত যে এফবিআইকে সেগুলো শুনতে হয়েছে’।
তিনি বলেন, ‘এফবিআই সৎ। এফবিআই শক্তিশালী এবং এফবিআই স্বাধীন আছে ও থাকবে’।
ওয়াশিংটনে জেমস কোমির শুনানি ছিলো যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আগ্রহের বিষয়।
তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মিস্টার কোমি শুনানিতে বলেছেন তার জানামতে সেটি টাম্প করেননি।