
একইসঙ্গে যেসব কারাখানা হাইড্রোলিক হর্ন তৈরির সঙ্গে জড়িত, সেসব কারাখানা বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ বিষয়ে জারি করা রুল শুনানির ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
এর আগে গত ৫ নভেম্বর ঢাকায় হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের পর সারাদেশে যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
গত ২৩ আগস্ট রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক হর্ন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২৭ আগস্টের পর কোনো গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হলে ওই পরিবহন জব্দেরও নির্দেশ দেন আদালত।
এর আগে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা মহানগরে চলাচলকারী যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ এ রিট দায়ের করেন।
ওই রিটে বলা হয়, মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী যানবাহনে এমন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না যা শব্দ দূষণের সৃষ্টি করে। কিন্তু আইন ভঙ্গ করে বিভিন্ন যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রিটে এসব হর্ন ব্যবহারকারী যানবাহন জব্দের নির্দেশনাও চাওয়া হয়। উল্লেখ্য এর আগে গত ২৭ মার্চ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া পেশাদার বা অপেশাদার চালক গাড়ি চালালে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রেখে নতুন একটি আইনের খসড়ার অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এদিন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৭’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয় আইনে। আইনে গাড়ি চালানোর সময় চালকদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্যও দণ্ডের বিধান রাখা হয়।
আইনে বলা হয়, অষ্টম শ্রেণি পাস না করলে লাইসেন্স পাবেন না চালকরা। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে আগের অধ্যাদেশকে নতুন করে আইনে পরিণত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব জানিয়েছিলেন, আইনে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগের আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত ছিল না। নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালককে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। চালকের সহকারীরও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া থাকতে হবে। সহকারী হতে হলেও বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স নিতে হবে।
আগের অধ্যাদেশে সহকারীদের লাইসেন্সের কথা থাকলেও তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছিল না বলে জানান সচিব।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব বলেন, নতুন আইনের খসড়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড দেওয়া হবে। আগের আইনে এ ধরনের অপরাধের জন্য তিন মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল।
ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে- এমন অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় চালকদের গ্রেপ্তার করতে পারবে বলে জানান সচিব।
চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা