
নাটোরে শহরের আলাইপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে আলাইপুর এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ের আশেপাশে বিপুল পরিমাণ র্যাব, পুলিশ সহ গোয়েন্দা সংস্থা অবস্থান নিয়েছে।
রবিবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাটোর জেলা সভাপতি এবং সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর আলাইপুরের বাসার সামনে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে নাটোর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও নাটোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু পত্নী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি সিংড়া উপজেলায় বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য নাটোরে নিজ বাড়িতে আসেন। সকালে তিনি বাড়ির ভিতরে সিংড়া যাওয়ার প্রস্তুতিকালে হঠাৎ করে একদল যুবক জয়বাংলা দিয়ে আক্রমণ করে। এসময় নাটোর সদর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল (২৪) ও আনসার ভিডিপির সদস্য সোহেল রানা (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়।
এদিকে বিএনপি অভিযোগ করেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাটোর জেলা সভাপতি এবং সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর আলাইপুরের বাসায় হামলা করা হয়েছে।
অপর একটি সুত্র জানায়, রবিবার সকালে সিংড়া অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছাবিনা ইয়াসমিন ছবি সিংড়া যাওয়ার জন্য বের হওয়ার সময় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মাসুমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫টি মোটরসাইকেলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা মিছিলসহ সাবেক মন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি দুলুর বাড়ির সামনে এসে গালাগালি করে সবাইকে জোর করে বাসার ভেতরে ঢুকিয়ে বাহির থেকে গেট আটকে দেয় এবং হাফরাস্তা এলাকায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীরা অবস্থান করছে এমন খবরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সেখানে যায়।
এবিষয়ে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মোর্ত্তাজা আলী বাবলু বলেছেন, ‘রবিবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নাটোরে যুবদল-ছাত্রদল মিছিল করবে এজন্য তারা বহিরাগত অস্ত্রধারী ক্যাডারদের নিয়ে এসেছে এমন খবরের ভিত্তিতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আলাইপুরে রাস্তায় অবস্থান নেয়। পরে দুলুর ক্যাডাররা গুলি করলে ছাত্রলীগ নেতাসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়।’
অপরদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, ‘সিংড়া উপজেলা বিএনপির পরিচিতি সভায় যোগদানের জন্য তার স্ত্রী ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছাবিনা ইয়াসমিন ছবি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার বাসায় পুুলিশের সামনে প্রকাশ্যে হামলা করে। এসময় তাদের ছোঁড়া গুলিতেই দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়, এ ঘটনা এলাকার সবাই দেখেছেন। এর বিচার আমি নাটোরের মানুষের উপরে ছেড়ে দিলাম।’
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিকদার মশিউর রহমান জানান, এখন ব্যস্ত আছি বিস্তারিত বলতে পারব না, তবে দুইজন জখম হয়েছেন, তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানাবো।
নাটোরে নিজের মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা
নাটোর সদর উপজেলার দস্তানাবাদ ফকিরপাড়ায় নিজের মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আলম সর্দার (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
রবিবার রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আলম সর্দারকে আটক করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন- নাটোর সদর উপজেলার দস্তানাবাদ ফকিরপাড়া গ্রামের আলম সর্দারের মা বিলকিস বেগম (৪২) এবং তার পিএসসি পরীক্ষার্থী ছেলে আলিফ সর্দার (১১)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত ৮টার দিকে দস্তানাবাদ ফকিরপাড়া গ্রামের শাহাদাৎ সর্দারের বাড়িতে হৈ চৈ শুনে গ্রামবাসী সেখানে যান। এসময় ওই বাড়িতে আলম সর্দারের ছেলে পিএসসি সমাপনী পরীক্ষার্থী আলিফ সর্দার ও তার দাদী বিলকিস বেগমকে গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনার সময় আলমের বাবা সাহাদাৎ সর্দার বাড়ির বাইরে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে ঢোকা মাত্র তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে নিজের ছেলে আলম সর্দার।
রক্তাক্ত অবস্থায় গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠায়। পরে তাৎক্ষণিক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গ্রামবাসী তাৎক্ষণিক আলম সর্দারকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। স্থানীয়রা জানান, আলম সর্দার ও তার বাবার মধ্যে বিরোধের জের ধরে আলম তার বউকে তালাক দেয়। বাবা-ছেলের মধ্যে আদালতে মামলাও চলছিল। সম্প্রতি বাবার জমিতে আলম নতুন বাড়ি তৈরি করলে সেই জমিও অন্য জায়গায় তার বাবা বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা করে। সম্প্রতি সে তার বাবা-মাকে তাদের জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার চাপ দিচ্ছিল। এর জের ধরেই এসব হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। বর্তমানে ওই বাড়িতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাজী মোহাম্মদ আলী রাসেল ব্রেকিংনিউজকে জানান, শাহাদাৎ সর্দারের আঘাত খুবই গুরুতর হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিকদার মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযুক্ত আলম সর্দারকে আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি চলছে। মামলার প্রস্তুতিও চলছে।’
নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ‘নেশাগ্রস্থ আলম সর্দার ইয়াবা আসক্ত ছিল। পারবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘাতককে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানা যাবে। সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’