
এক মেজর সহ ৪ জওয়ানের মৃত্যুর বদলা নিলো ভারতীয় বাহিনী। আগের ঘটনার জেরে তিন পাকিস্তানি সৈনিককে হত্যা করল তারা। ৩ সৈনিকের নিহত হবার খবর স্বীকার করেছে পাকিস্তান বাহিনী।
এনএনআই সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়াল কোট এলাকায় ঢুকে পড়লে ৩ পাক সৈনিককে হত্যা করে ভারতীয় বাহিনী। আহত হয় আরও ৫ পাক সৈনিক।
এদিকে পাক সেনা মিডিয়া শাখা আইএসপিআর-কে উদ্ধৃত করে দ্যা ডন এর খবর বলা হয়, ‘গুলি বিনিময় শুরু হয় রাওয়াল কোটের রুখ চাকরি সেক্টরে। জোরালো জবাব দিয়েছে পাকিস্তান বাহিনীও।’
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাজৌরি সেক্টরে পাকিস্তানি রেঞ্জার্সদের গুলিতে নিহত হয় এক মেজর সহ মোট ৪ সৈনিক।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন মেজর মনোজ মোহারকর, লান্স নায়েক গুরমেইল সিং, সিপাই পরগত সিং ও লান্স নায়েক কুলদীপ সিং। এ ব্যপারে বলতে গিয়ে সেনা সূত্রে বলা হয়েছে, ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানি রেঞ্জার্সদের গোলাগুলির যোগ্য জবাব দিয়েছে।
ভারতীয় সূত্র দাবি করেছে, এবছর ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭৭১ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালিয়েছে পাকিস্তান। ওই গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। এর মধ্যে রয়েছেন ১৪ জন সেনা, ৪ বিএসএফ সদস্য ও ১২ সাধারণ নাগরিক।
জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে পাক বাহিনীর হামলায় ৪ ভারতীয় সেনা নিহত
জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষী বাহিনী ব্যাটের (পাকিস্তান বর্ডার অ্যাকশন টিম) আক্রমণে এক অফিসারসহ চার ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শনিবার ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের রাজোর জেলার সীমান্ত রেখায় (এলওসি) এ ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানি সেনারা সীমান্ত রেখার প্রায় ৪০০ মিটার ভেতরে অনুপ্রবেশ করে এই হামলা চালায়।
ব্যাটের হামলার ব্যাপারে ভারতীয় সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানায়নি। তবে এক হামলায় মেজর মোহারকার প্রফুল্ল অম্বাদাস, ল্যান্স নায়েক গুরমেইল সিং, ল্যান্স নায়েক কুলদীপ সিং এবং সিপাই পরগত সিং নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া আরো এক সেনা সদস্য আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনী আরো বলেছে, তারা পাকিস্তানি সেনাদের চৌকি লক্ষ্য করে কার্যকর জবাব দিয়েছেন।
ভারতীয় সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মেজর মোহারকার প্রফুল্ল অম্বাদাস, ল্যান্স নায়েক গুরমেইল সিং, ল্যান্স নায়েক কুলদীপ সিং এবং সিপাই পরগত সিং সাহসী ও দায়িত্বশীল সেনা ছিলেন। জাতি তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকে স্মরণে রাখবে।’
‘ভারতীয় সেনাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না’ বলেও উল্লেখ করা হয় ওই বিবৃতিতে।
এর আগে এপ্রিল মাসে দুই পাকিস্তান সীমান্তে দুই সেনা সদস্য নিহত হয়। পাকিস্তানি সেনাদের হামলায় তারা নিহত হয় বলে ধারণা করা হয়।