
কক্সবাজারের মহেশখালিতে বিমান বাহিনী দুটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোন বিস্তারিত জানা যায়নি। মহেশখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস ও ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিসার মাহফুজ রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা ৫০ মিনিটে মহেশখালীর পৌরসভার পুটিবিলা এলাকার ইয়ার মোহাম্মদপাড়ায় সাবেক চেয়ারম্যান সরওয়ার আজমের বাড়ির পেছনে খালি জায়গায় প্রথম একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। একই সময় ছোট মহেশখালীতে অপর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সন্ধ্যা সাতটার ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের ভীড় বাড়ছে।
এ ঘটনার পরও দুটি বিমানের চারজন পাইলট জীবিত ও অক্ষত আছেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআরের সহকারী পরিচালক মো. নূর ইসলাম জানিয়েছেন, চারজন পাইলটকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
আইএসপিআর আরো জানায়, বিধ্বস্ত বিমানের একটিতে ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন শরীফ ও স্কোয়াড্রন লিডার মনির। অপর বিমানে ছিলেন উইং কমান্ডার আজিম ও রাজীব। চার পাইলট বুধবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে প্রশিক্ষণ বিমান দুটি নিয়ে উড্ডয়ন করেন। ৫০ মিনিট পর কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
এদিকে বিমানের কোনো পাইলট আহত না হলেও বিমানের ধসে পড়া অংশে আঘাত পেয়ে আখি (১৫) ও ফয়সাল (১২) নামের দুই শিশু আহত হয়েছে।
মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিমানটি ওই এলাকার জনৈক আবদুস সাত্তারের বাড়ির ওপরের অংশ উড়িয়ে নিয়ে পাশের ধানক্ষেতে বিধ্বস্ত হয়। ওই সময় দুই শিশু আহত হয়েছে। বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সাধন কুমার মোহন্ত জানিয়েছেন, মহেশখালীর পুটিবিলায় বিমানবাহিনীর দুটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর তিনিও পেয়েছেন। বিমান দুটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। কী কারণে এ দুর্ঘটনা হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেননি বিমানবন্দরের ওই কর্মকর্তা।
এর আগে সন্ধ্যায় আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদুল হাসান জানান, ‘বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানটি রাডার থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এটি বিধ্বস্ত হয়েছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত না। বিমানটিকে উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। সাধারণত প্রশিক্ষণ বিমানে দুই জন পাইলট থাকেন। তবে এই বিমানে কয়জন বা কারা ছিল তা এখনই জানানো যাচ্ছে না। তাদের উদ্ধারের কাজ চলছে।’
বিধ্বস্ত হওয়ার ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিসার মাহফুজ রহমান জানান, সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।