
ভারতের ১৪টি রাজ্যে আইএস’র প্রতি সহানুভূতিশীল সন্দেহে অন্তত ১০৩ ব্যক্তিকে আটক করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশান এজেন্সি (এনআইএ), কেন্দ্রীয় সন্ত্রাস দমন এজেন্সি ও বিভিন্ন রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী। বিভিন্ন সরকারী সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে আটক হয়েছে ১৭ জন। এছাড়া মহারাষ্ট্রে ১৬, তেলেঙ্গানায় ১৬, কেরালায় ১৪ এবং কর্নাটকে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হান্সরাজ গঙ্গারাম আহির ২০ ডিসেম্বর রাজ্যসভার অধিবেশনে এ তথ্য জানান।
এই কয়েকটি রাজ্যে আটককৃতদের সংখ্যা ১৪টি রাজ্যের মোট আটককৃত সংখ্যার ৬৯ শতাংশ।
সংসদে আহির বলেন, আইএস-এ যোগ দিয়েছে, এ রকম ভারতীয়ের খবর রাষ্ট্রীয় ও প্রাদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তেমন নেই।
তেলেঙ্গানায় এক লাখ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে জনসংখ্যা অনুপাতে আটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপরই রয়েছে উত্তরখন্ড, কেরালা, মধ্য প্রদেশ ও মহারাষ্ট্র।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর ১৭ ডিসেম্বর কেরালার কান্নোর জেলায় আইএস’র প্রতি সহমর্মী সন্দেহে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে এনআইএ। ১৯৬৭ সালের আনল’ফুল অ্যাকটিভিটিজ প্রিভেনশান অ্যাক্টের অধীনে ওই মামলা করা হয়।
গত ৩০ মে ইন্ডিয়া টুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বাড়ি, মাংস, চকলেট ও নারীর প্রলোভন দেখিয়ে ভারতীয় যুবকদের প্রলুব্ধ করছে আইএস।
১১ নভেম্বর প্রকাশিত অন্য এক রিপোর্টে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বিগত কয়েক বছরে কেরালা থেকে শতাধিক মানুষ আইএস-এ যোগ দিয়েছে।
২০১৬ সালে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জনের মৃত্যুর জন্য আইএস দায়ী
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত আইএস এ পর্যন্ত চরমপন্থী মতাদর্শ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিশ্বাসী হাজার হাজার বিদেশীকে নিয়োগ করেছে।
২০১৬ সালে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে সবচেয়ে বেশি সশস্ত্র হামলা (১১৩৩টি) ও হত্যার (৯১১৪ জন) জন্য আইএস দায়ী। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কান্ট্রি রিপোর্ট অন টেররিজমে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০১৬ সালে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী আইএস। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৭ জন।
২০১৫ সালের তুলনায় আইএস’র হাতে নিহতের সংখ্যা ২০১৬ সালে ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫ সালে তাদের হাতে নিহত হয় ৬১৭৮ জন। ২০১৬ সালে নিহত হয় ৯১১৪ জন। আর আইএস কর্তৃক জিম্মির সংখ্যা বেড়েছে ৭৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে জিম্মি করা হয়েছিল ৪৮০৫ জনকে আর ২০১৬ সালে জিম্মি করা হয় ৮৩৭৯ জনকে।
সিরিয়া ও ইরাকের বাইরে হামলার সংখ্যা বেড়েছে ৮০ শতাংশ। ২০১৫ সালে এ সংখ্যাটা ছিল ৪৪, আর ২০১৬তে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯টিতে।