
জাপানের সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তার দেশের সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি রবিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে এ প্রস্তাব দেন বলে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান। খবর বাসসের।
তারো কোনো বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করবো। তার দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি চায়।
রোহিঙ্গাদের মায়ানমারের নাগরিক হিসেবে পুনরায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মায়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগের স্রোতের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কেবল মানবিক বিবেচনায় তাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ভাষাণচর দ্বীপে স্থানান্তর করা হবে। বাংলাদেশকে তার ভিশন ২০২১ অর্জনে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি দু’দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অধিকতর জোরদারে বাংলাদেশের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ও জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা ও বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইসু ইজোমি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
রোহিঙ্গা নির্যাতনের তথ্য কংগ্রেসে উপস্থাপন করবে মার্কিন প্রতিনিধি দল
সফররত যুক্তরাষ্ট্রের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল শনিবার উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গাদের সাথে আলাপ করে তারা নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য পেয়েছেন। রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে পাওয়া এ সকল তথ্য কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে। খবর বাসসের।
১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি শনিবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন দু’ জন সিনেটর ও তিন জন কংগ্রেসম্যান। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্ণিকাট এ সময় তাদের সাথে ছিলেন।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের সাথে আলাপ করেছেন। আলাপকালে রোহিঙ্গারা মায়ানমার সেনা বাহিনীর হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের বিবরণ দিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ সফর শেষে মায়ানমারে যাবেন। ওখান থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে দেশে ফিরে তা কংগ্রেসে উত্থাপন করবেন।
এদিকে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল, সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্ট্রম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দলের রবিবার উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের কথা রয়েছে।